নতুন বছরের প্রথম দিন থেকে বাংলাদেশ থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) রপ্তানিকারকরা যুক্ত হচ্ছেন ‘দ্য রেজিস্টার্ড এক্সপোর্টার সিস্টেম (রেক্স)’-এ। এ পদ্ধতিতে ইইউভুক্ত বাজারে জেনারালাইজড সিস্টেম অব প্রেফারেন্সেস-জিএসপি সনদ নিতে পারবেন রপ্তানিকারক নিজেই।
ইপিবি’র কর্মকর্তারা জানান, ইউরোপে জিএসপি সুবিধা পেতে ইপিবি রপ্তানিকারককে যে সনদ দেয় তাতে ওই পণ্যের কাঁচামাল, উৎপাদনসহ নানা বিষয়ে তথ্য থাকে। রপ্তানিকারকরা ৩০০ বা ৫০০ টাকা জিএসপি ফরম কিনে সেখানে পণ্যের কাঁচামাল, উৎপাদনসহ প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে ইপিবিতে সনদের আবেদন করেন। ইপিবি যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে সনদ দিয়ে থাকে। ইপিবির এই সনদের পরিপ্রেক্ষিতেই আমদানিকারকরা জিএসপি সুবিধা পেয়ে থাকেন। প্রতিবছর চার থেকে সাড়ে চার লাখ জিএসপি সনদ ইস্যু করে ইপিবি।
ইইউ-এর ওয়েবসাইটে থাকা তথ্য অনুযায়ী, রেক্স হচ্ছে এই জিএসপি সনদের জন্য ইইউর চালু করা একটি অনলাইন বা স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি। যেখানে কোনো দেশের রপ্তানিকারকরা নির্ধারিত প্রতিষ্ঠান থেকে নিবন্ধন নিয়ে নিজেদের পণ্যের জিএসপি নিজেরাই ইস্যু করতে পারবেন।
বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের নিবন্ধন দেবে ইপিবি। তখন রপ্তানিকারককে একটি রেক্স নিবন্ধন নম্বর ও পাসওয়ার্ড দেবে ইপিবি। রপ্তানিকারকরা ওই নিবন্ধন নম্বরের মাধ্যমে রেক্স পদ্ধতির সার্ভারে প্রবেশ করে নিজেরাই পণ্যের জিএসপি সনদ ইস্যু করবেন।
ইপিবি’র কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশসহ ২২টি দেশ এ বছর পরীক্ষামূলকভাবে রেক্স পদ্ধতিতে যুক্ত হচ্ছে। এর আগে ৫১টি দেশ পরীক্ষামুলকভাবে এ পদ্ধতিতে যুক্ত হয়েছে। ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ইইউ থেকে জিএসপি সুবিধা নেওয়া দেশগুলো পরীক্ষামূলকভাবে রেক্স পদ্ধতিতে কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
এরপর ভুলত্রুটি সংশোধনে আরো ছয় মাস সময় পাবেন রপ্তানিকারকরা। ২০২০ সালের ১ জুলাই থেকে পূর্ণ মাত্রায় স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে চালু হবে রেক্স। এরপর ইইউভুক্ত ২৭টি দেশ এবং নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডে রপ্তানিতে রেক্স পদ্ধতি ব্যবহার বাধ্যতামূলক হবে।
ইপিবির সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য খাতের প্রায় ১০ হাজার রপ্তানিকারক ইইউতে পণ্য রপ্তানি করেন।
এর মধ্যে পোশাক খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর বেশিরভাগই রেক্স পদ্ধতির জন্য প্রস্তুত। অন্য খাতের বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানই প্রস্তুত নয়। তাদের সক্ষমতা সৃষ্টিতে কর্মশালার আয়োজন করা হবে।