প্রশাসনকে চাপে রাখার কৌশল হিসেবে কোনো কোনো দল ও প্রার্থী নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করছেন বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। গতকাল মঙ্গলবার বড়দিন উপলক্ষে রাজধানীর বনানী ক্যাথলিক চার্চ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
নির্বাচনী কাজে বাধা দেওয়া ও বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ঢালাওভাবে গ্রেপ্তার করার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপি কমিশনার সাংবাদিকদের বলেন, ‘রাজনীতিবিদরা অভিযোগ করতেই পারেন। সে ব্যাপারে বিতর্ক করব না। আমি মনে করি বিরোধী পক্ষকে, নির্বাচন কমিশনকে কিংবা প্রশাসনকে চাপের মুখে রাখার এটি একটি কৌশল। এটা কোনো কোনো দলের স্ট্র্যাটেজিও হতে পারে।’
নির্বাচনে ভোট চাওয়ায় কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই মন্তব্য করে আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘একটি নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ করতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, সন্ত্রাসী, দখলবাজ, চাঁদাবাজদের নিয়ন্ত্রণ করা নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের দায়িত্ব। আমরা সেই কাজটিই করে যাচ্ছি। কোনোভাবে ভোটকেন্দ্রে বা ভোটগ্রহণের আগে ও পরে যেন কেউ জনগণের নিরাপত্তা বিঘœ করতে না পারে, সেজন্য আমরা সতর্ক আছি। যারা অভিযোগ করছে, তারা তাদের স্বার্থ চিন্তা করে প্রশাসনকে চাপে ফেলার জন্য মনগড়া ও ভিত্তিহীন অভিযোগ করছে। তবে দু-চারটা আসল অভিযোগও রয়েছে। সেগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।’
নির্বাচনী প্রচারকালে ঢাকা-৯ আসনে বিএনপির প্রার্থী আফরোজা আব্বাস গত রোববার সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হন। এর আগে তার গণসংযোগে দুই দফা হামলায় হয়। সর্বশেষ ঘটনার পর আফরোজা একটি সংবাদমাধ্যমকে জানান, তিনি প্রশাসনকে জানিয়ে প্রচারে নামার পরও থামছে না হামলা।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঢাকা মহানগরে প্রার্থীরা উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি টিম নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণের জন্য আমরা নির্বাচন কমিশনের নেতৃত্বে সার্বিকভাবে প্রস্তুত আছি। আগের তুলনায় এবার ঢাকায় সহিংসতা ও গোলযোগ খুবই কম।’
আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘আমরা নগরবাসী ও বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিককে বার্তা দিতে চাই, সমন্বিত পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে ইসির নির্দেশনা অনুযায়ী উৎসবমুখর পরিবেশে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়ে বাড়ি ফিরতে কাউকে যেন বিড়ম্বনার শিকার হতে না হয়, সেজন্য আমরা ও সশস্ত্র বাহিনী তৎপর রয়েছি। এখন পর্যন্ত নির্বাচনের প্রস্তুতি সন্তোষজনকভাবে সম্পন্ন হচ্ছে।’