মোংলায় ১১০ একর জমি পাচ্ছেন ভারতীয় উদ্যোক্তারা

বাগেরহাটের মোংলায় ভারতীয় উদ্যোক্তাদের জন্য আলাদা অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়তে যাচ্ছে সরকার। এ জন্য মোংলা বন্দর কর্র্তৃপক্ষের জমিতে এ অঞ্চল গড়ে তুলতে ২৪৫ কোটি টাকা ব্যয় ধরে একটি প্রকল্পের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রায় ২৪৬ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পে ভারত সরকার অনুদান হিসেবে দেবে ২৪২ কোটি ৮০ লাখ টাকা। বাকি দুই কোটি ৭৪ লাখ টাকা বাংলাদেশ নিজস্ব তহবিল থেকে দেবে বলে প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বাগেরহাটের মোংলা বন্দরের ২০০ মিটার দূরত্বের মধ্যে প্রস্তাবিত এ অর্থনৈতিক অঞ্চল থেকে বহির্বাণিজ্য তুলনামূলক সহজ হবে। অঞ্চলটিতে কৃষি, খাদ্য, হালকা প্রকৌশল ও রসায়ন খাতের শিল্প স্থাপন করা হবে। এ অঞ্চলে আট হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে।

পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, মোংলায় ভারতীয় উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার এ প্রকল্প নিয়ে পরিকল্পনা কমিশনে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাতে ২০২০ সালের অক্টোবরে প্রকল্পের আওতায় অবকাঠামো নির্মাণের কথা বলা হয়েছে। তবে পিইসি সভা এর সময়সীমা ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছে। প্রকল্প প্রস্তাবে বিদ্যমান পরামর্শক ব্যয় ১৫ কোটি টাকা থেকে কমানোর কথাও বলা হয়েছে। বাংলাদেশ নিজস্ব তহবিল থেকে যে অর্থ দেবে তা অনুদান হিসেবে দেওয়ার বদলে ১ শতাংশ সুদে ঋণ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে পিইসি সভায়।

পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, বেশ কিছু শর্তসাপেক্ষে প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে। নির্বাচনের কারণে বর্তমান একনেক সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। নতুন সরকার দায়িত্ব নিলে জানুয়ারিতে প্রকল্পটি একনেকে উপস্থাপন করা হবে। সেখানে অনুমোদন পেলে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্র্তৃপক্ষ (বেজা)।

পিইসি সভার কার্যবিবরণী পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ সরকার ও ভারতের এক্সিম ব্যাংকের মধ্যে স্বাক্ষরিত দ্বিতীয় লাইন অব ক্রেডিট (এলওসি-২) চুক্তির আওয়ায় মোংলা ও কুষ্টিয়ায় অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনে দুই পক্ষ সম্মত হয়। মোংলায় ভারতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে শুধু ভারতীয় উদ্যোক্তারা বিনিয়োগ করতে পারবেন। সরকার টু সরকার (জিটুজি) পদ্ধতিতে ভারত তাদের নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অঞ্চলটির উন্নয়ন ও অবকাঠামো নির্মাণ করবে।

পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্প প্রস্তাবে এক বছর ৯ মাসে কাজ শেষ করার কথা বলা হয়েছে। ইপিসি (প্রকৌশল, আহরণ ও নির্মাণ) চুক্তিতে বাড়তি সময় লাগার আশঙ্কা থেকে এর মেয়াদ ৯ মাস বাড়িয়ে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রকল্প পরামর্শক ব্যয় ১৫ কোটি টাকা থেকে কমানোর সুপারিশ করে পরিকল্পনা কমিশন বলেছে, শিক্ষা সফর ও বিদেশে গিয়ে প্রশিক্ষণ নেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যয় কমানোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।

অবকাঠামো নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) স্থাপন না করার পক্ষে মত দিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। তবে সিইটিপি নির্মাণের জন্য জায়গা রাখতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, অর্থনৈতিক অঞ্চলটিতে ভারতীয় উদ্যোক্তারা কী ধরনের শিল্প স্থাপন করবেন, তা এখনো জানা যায়নি। বেশির ভাগ অর্থনৈতিক অঞ্চলেই পরিবেশবান্ধব শিল্প স্থাপন হয়েছে। পরিবেশসম্মত শিল্পে সিইটিপি প্রয়োজন হয় না। তা ছাড়া শিল্পের প্রকৃতি না জেনে কেমন সিইটিপি স্থাপন হবেÑ এ বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। এ অবস্থায় প্রয়োজনে নতুন একটি প্রকল্পের আওতায় সিইটিপি স্থাপনের পক্ষে মত দিয়েছে কমিশন।