একাদশ সংসদ নির্বাচনের প্রচারে বিরোধী প্রার্থী-সমর্থকদের বাধা, হামলা, গ্রেপ্তারের মাধ্যমে ভীতিজনক পরিবেশ সৃষ্টি হলেও ভোট দিতে যাওয়ার মানসিক দৃঢ়তা জনগণের আছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান। গতকাল বুধবার দেশ রূপান্তরের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন চট্টগ্রাম-১০ আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের এই প্রার্থী।
নোমান বলেন, ‘অতীতে যারা আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়েছে, এবার তারাও দলটির ওপর ক্ষুব্ধ। কারণ, প্রতিটি সমাজে, প্রতিটি পরিবারে কেউ না কেউ আওয়ামী লীগ কর্মী ও পুলিশের হাতে নির্যাতিত হচ্ছে। তাদের স্বৈরাচারী আচরণ, সন্ত্রাসী কার্যক্রম, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পোস্টার-ব্যানার ছিঁড়ে ফেলাÑ এসব জনগণ ভালো চোখে দেখছে না। তা ছাড়া ১০ বছর ধরে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না পারায় জনগণের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। ৩০ ডিসেম্বর ব্যালটের মাধ্যমে জনগণ এর জবাব দেবে। ভোটাধিকার প্রয়োগে কোনো বাধা তারা মানবে না বলেই আমার বিশ্বাস।’
নগরীর ভিআইপি টাওয়ারের বাসভবনে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন ঘিরে বিরাজমান পরিস্থিতি, নির্বাচন কমিশন, পুলিশের ভূমিকা, নির্বাচনী প্রস্তুতি ও ভোটারদের মানসিকতা নিয়ে কথা বলেন বর্ষীয়ান এই রাজনীতিক। দেশে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ নেই মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘যেখানে প্রার্থীরা প্রচারে যেতে পারছে না, মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হচ্ছে, সেখানে তো নির্বাচনের পরিবেশ থাকার কথা নয়। জীবনের শঙ্কা নিয়ে ঘর থেকে বেরুতে হচ্ছে প্রার্থীদের। আগে দেখতাম নির্বাচনী মিছিলে সংঘর্ষ হতো। এখন দেখছি ভিন্নরূপ। পরিকল্পনা করে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর জীবননাশের চেষ্টাÑ দেশের নির্বাচনের ইতিহাসে এবারই প্রথম দেখলাম।’
চট্টগ্রামের অধিকাংশ আসনে ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থীদের ওপর হামলা ও গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটছে অভিযোগ করে নোমান বলেন, ‘প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কর্মীদের হামলায় আমাদের প্রার্থীরা প্রতিদিন রক্তাক্ত হচ্ছে। পুলিশ ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর পক্ষে সরাসরি কাজ করছে। প্রচারে নামলে কর্মী-সমর্থকদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। চট্টগ্রামের বিভিন্ন আসন থেকে এ পর্যন্ত কয়েক হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখনো যারা কাজ করছে, তারাও দৌড়ের মধ্যে আছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। গায়েবি মামলার তালিকায় ঢুকিয়ে গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘কিছুদিন আগে হালিশহর নয়াবাজারে আমার র্যালিতে গুলি চালানো হয়। গত মঙ্গলবার নগরীর রামপুরা ওয়ার্ডে গণসংযোগ কর্মসূচি থাকলেও ছাত্রলীগের বাধায় যেতে পারিনি। পুলিশ ও ছাত্রলীগ একসঙ্গে আমাদের কর্মীদের পিটিয়েছে। অনেকের বাড়িঘর তছনছ করেছে। সব জায়গায় একই অবস্থা।’
সেনা মোতায়েন হলেও এখন পর্যন্ত পরিস্থিতির কোনো উন্নতি দৃশ্যমান নয় বলে মন্তব্য করেন বিএনপির এই নেতা। নোমান বলেন, ‘তারা (সেনা সদস্য) রিটার্নিং অফিসারের অধীনে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করছে। আমাদের অভিযোগের কোনো সমাধান দিতে পারছে না। হামলা, গ্রেপ্তার, প্রচারে বাধার বিষয়ে রিটার্নিং অফিসারকে বলেও কোনো রেজাল্ট আসছে না।’
এত অভিযোগ সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকবেন বলে জানান বিএনপির এই কেন্দ্রীয় নেতা। তিনি বলেন, ‘সম্পূর্ণ প্রতিকূল ও অরাজক পরিস্থিতি সত্ত্বেও আমরা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। আমরা এর শেষ দেখতে চাই। কারণ, গণতন্ত্রবিহীন রাষ্ট্র স্বৈরতন্ত্রকে উৎসাহিত করবে। তাই দেশে গণতান্ত্রিক ধারা পুনরুজ্জীবিত করতে হবে। সরকার চায় আমরা নির্বাচন থেকে দূরে সরে যাই। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন সরকারের আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। আমরা নির্বাচনে না থাকলে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সহজ হবে।’