নিজ আসনে ব্যস্ত কাদেরকে দলীয় কাজ থেকে মুক্তি

-নির্বাচনের আগে ঢাকায় ফিরছেন না

 

-মাঝেমধ্যে আশপাশের আসনে

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের নিজের নির্বাচনী আসন (নোয়াখালী-৫) নিয়েই ব্যস্ত। দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এই নেতাকে একাদশ সংসদ নির্বাচনে দলীয় কার্যক্রম থেকে দৃশ্যত অনুপস্থিত দেখা যাচ্ছে বেশ কয়েক দিন থেকে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিজের আসনেই বেশি সময় কাটছে তার। তাই দলের হয়ে নির্বাচনী কাজ থেকে মুক্ত রয়েছেন তিনি। সর্বশেষ ১২ ডিসেম্বর দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে নির্বাচন উপলক্ষে একটি প্রচার সভায় তাকে দেখা যায়। এরপর ঢাকায় আর কোনো নির্বাচনী কর্মসূচিতে দেখা যায়নি ওবায়দুল কাদেরকে। তবে প্রতিদিন গণমাধ্যমে বক্তব্য আসছে নিজের আসন থেকে। মাঝেমধ্যে পাশর্^বর্তী জেলা ফেনীতে প্রচারকাজে গিয়ে কথা বলতে দেখা যাচ্ছে তাকে।

এ প্রসঙ্গে জানতে ওবায়দুল কাদেরের মোবাইল ফোনে কয়েক দফা চেষ্টা করা হলেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা আবু নাসের দেশ রূপান্তরকে বলেন, নির্বাচনের আগে স্যার (ওবায়দুল কাদের) আর ঢাকায় ফিরবেন না। তিনি বলেন, স্যারের আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হবে তাই তিনি নিজের আসনে বেশি সময় কাটাচ্ছেন। দলীয় অন্য নেতাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য মতে, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা নিজেই ওবায়দুল কাদেরকে তার নির্বাচনী আসনে বেশি সময় দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। ওই আসনে তার প্রতিপক্ষ বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ

 আহমদ। তাকে শক্ত প্রার্থী হিসেবে মনে করা হয়। তাই সেখানে বেশি সময় দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে ওবায়দুল কাদেরকে।  

ঢাকায় দলের হয়ে বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন দুই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আবদুর রহমান। অন্যদিকে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার পাশে থেকে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করছেন আওয়ামী লীগ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান এইচ টি ইমাম। নীতিনির্ধারণী বক্তব্যও দিয়ে যাচ্ছেন এইচ টি ইমাম।

সম্প্রতি আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ঢাকার বাইরে দুটি নির্বাচনী জনসভা করেন সিলেট ও রংপুরে। এর একটিতেও ছিলেন না ওবায়দুল কাদের। এমনকি গোপালগঞ্জ সফরেও যাওয়া হয়নি নিজের আসনের ভোট নিয়ে ব্যস্ত থাকা ওবায়দুল কাদেরের। ঢাকায় সুধা সদন থেকে বিভিন্ন জেলায় ভিডিও কনফারেন্সে যেসব জনসভা করছেন দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা এর কোনোটিতেই উপস্থিত ছিলেন না দলের সাধারণ সম্পাদক।