একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার শেষে এখন ভোটের অপেক্ষা। এ সময় টানা তিনদিনের ছুটির সুযোগে অনেকেই ঢাকা ছেড়েছেন। ফলে রাজধানী এখন প্রায় ফাঁকা। এর মাঝেও সর্বত্রই এখন ভোটের আমেজ। প্রচার শেষ হলেও চায়ের দোকানে, আড্ডায় ছড়াচ্ছে ভোটের উত্তাপ।
এদিকে ছুটি কাটাতে ও ভোট দেওয়ার উদ্দেশ্যে গতকাল শুক্রবারও অনেকে বাড়ি ফিরেছেন। কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন, গাবতলী, সায়দাবাদ বাসস্ট্যান্ড ঘুরে দেখা গেছে ঘরমুখী মানুষের ব্যস্ততা।
ঢাকার কয়েকটি নির্বাচনী এলাকা ঘুরে দেখা যায় স্থানীয় বাসিন্দাদের চায়ের আড্ডায় কেবলই ভোটের আলাপ। কেউ কেউ বলছেন, এবার নির্বাচনের আমেজ কম, উৎসবের চেয়ে আতঙ্ক বেশি। ভোট কেমন হবে এ নিয়ে নানা
চিন্তাও করছেন ভোটাররা। কাছে জানতে চাইলে পাওয়া যায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
কারওয়ান বাজারের মুদি ব্যবসায়ী বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘আমি ঢাকার ভোটার নই, তবে ভোট দিতে বরাবরের মতো এবারও বাড়ি যাব। আমার ভোটটা আমি যোগ্য প্রার্থীকেই দেব।’ তিনি আশা করেন, এবারের ভোট হবে শান্তিপূর্ণ। এ সরকার দেশের অনেক উন্নয়ন করেছে। এখন সড়ক অনেক নিরাপদ, ছিনতাই কম বলে উল্লেখ করেন এ ভোটার।
এবারই প্রথম ভোটার আফরিন জানান, ‘আমার প্রথম ভোট দেব উন্নয়নের পক্ষে। বিগত দিনে যারা ক্ষমতায় ছিলেন তারা দেশের কোনো উন্নয়ন করেনি।’ বেকারত্ব নির্মূলের কথা উল্লেখ করে রাফিউল ইসলাম বলেন, ‘দেশে এখনো অনেক তরুণ বেকার। আমি চাই যারাই ক্ষমতায় আসুক না কেন তারা যেন দেশ থেকে বেকারত্ব দূর করে। নির্বাচন আশা করি আগেরবারের তুলনায় ভালো হবে।’
হতাশা প্রকাশ করে এক প্রবীণ ভোটার বলেন, ‘আমি এবার ভোট দিতে যাব না, খালি দেখি মারামারি।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ভোট কেমন আর হবে, দেখি ভোটের দিন কী হয়।’
নারী ভোটার শামসাদ বেগম বলেন, ‘আমার আসনে মহাজোটের প্রার্থী। এলাকার আশপাশে শুধু নাম শুনি লাঙ্গলের।’
আইনজীবী তৌহিদ রহমান তিতাস বলেন, ‘আমি মনে করি এবারের নির্বাচন হবে সুষ্ঠু। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রয়েছে সতর্ক অবস্থানে। ভোটার হিসেবে আমার একটাই প্রত্যাশা, যেন স্বাধীনভাবে সুন্দর একটি দেশে বসবাস করতে পারি।’