উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় কিশোরগঞ্জের ভোটাররা, তৎপর প্রশাসন

হামলা, মামলা ও গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে নির্বাচনী প্রচার। ভোটগ্রহণের সব প্রস্তুতিও সম্পন্ন। তারপরও নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবেন কি না তা নিয়ে ভোটারদের মধ্যে বিরাজ করছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ও আতঙ্ক। শঙ্কা প্রকাশ করেছেন ধানের শীষের প্রার্থীরাও। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, নির্বাচন হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী জানান, নির্বাচন সুষ্ঠু, সুন্দর ও নিরপেক্ষ করতে সব বাহিনীর সমন্বয়ে যা করণীয়, আমরা তা করছি। নির্বাচনকে ঘিরে গত শুক্রবার থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে মাঠে নেমেছে বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা। একইসঙ্গে আচরণবিধি লঙ্ঘন ও নানা অনিয়ম ঠেকাতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের পাশাপাশি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরাও মাঠে থাকবেন।

বিএনপির প্রার্থীরা বলছেন, একতরফা নির্বাচন করার জন্য আওয়ামী লীগ সব ব্যবস্থা পাকা করে রেখেছে। প্রচারের সময় বিএনপির দুই প্রার্থীকে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পিটিয়ে আহত করেছে। বিএনপি ও শরিক দলের নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার, হামলা-মামলা দিয়ে ঘরছাড়া করেছে আওয়ামী লীগ। পুলিশও তাদের হয়ে কাজ করছে। এরমধ্যে নির্বাচন কতটা নিরপেক্ষ হবে, তা বোঝাই যায়। তবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বলছে, ভরাডুবির আশঙ্কায় মিথ্যাচার করছে বিএনপি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভোটার সংশয় প্রকাশ করেছেন। এত কিছুর পরও কি তারা কেন্দ্রে যেতে পারবেন? গেলেও ইচ্ছে মতো ভোট দেওয়া যাবে? কেন্দ্রে কোনো গোলযোগ হবে কি না?

পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, এবারের জাতীয় নির্বাচন যেন সুষ্ঠু, নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ হয় সেই লক্ষ্যে আমাদের তৎপরতা অব্যাহত আছে। কোনোভাবেই নির্বাচনকে বিতর্কিত হতে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, নিয়মিত কার্যক্রম হিসেবে আমাদের অভিযান পরিচালনা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ ও সাধারণ প্রতিটি কেন্দ্রে ২০ জন পুলিশ মোতায়েন থাকবে। ভোটকেন্দ্রগুলোতে ৭ হাজার পুলিশ এবং সাড়ে ৯ হাজার আনসার থাকবে। এছাড়াও বিজিবি ও র‌্যাবের টহল থাকবে।

জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, কিশোরগঞ্জের ৬টি আসনে মোট প্রতিদ্বন্দ্বী ৩৪ জন। মোট ভোটার ২১ লাখ ২৬ হাজার ৪২৭। এরমধ্যে পুরুষ ১০ লাখ ৭৩ হাজার ১৭। আর নারী ১০ লাখ ৫৩ হাজার ৪১০। মোট ভোটকেন্দ্র ৮৩৫টি।