তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, ‘সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জের একটা হচ্ছে, সরকার যে উন্নয়ন করেছে সেই উন্নয়নটা রক্ষা করে আরো এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। দুই, জঙ্গি-সন্ত্রাস দমন করে যে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, সেই শান্তি বজায় রেখে সাম্প্রদায়িকতা এবং সামরিক শাসনের যে জঞ্জাল এখনো রয়েছে সেগুলো পরিষ্কার করে ফেলা। প্রধানমন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েছেন, তা আমি পরিষ্কার করে বলছি। তিনি দুর্নীতি ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেবেন এবং সুশাসনের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন।’ গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ের গণমাধ্যম কেন্দ্রে ‘বিএসআরএফ সংলাপে’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী আরো বলেন, ‘আগামী ৩ জানুয়ারি নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন। এর আগে কাল (বুধবার) গেজেট জারি হবে।’
নতুন সরকারের আকার ও মন্ত্রিসভায় কতজন নতুন মুখ আসতে পারে জানতে চাইলে জাসদ একাংশের সভাপতি ইনু বলেন, ‘এটা প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার, এ ব্যাপারে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না। প্রধানমন্ত্রী সবচেয়ে যোগ্য ও কার্যকর লোক দিয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করবেন। প্রধানমন্ত্রীর ওপর আমাদের পূর্ণ আস্থা আছে।’
নতুন মন্ত্রিসভা কবে গঠন হচ্ছে এ প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সময়টা আমি বলতে পারব না। সংসদ সদস্যরা শপথ নেওয়ার পরই মন্ত্রিসভায় যাওয়ার যোগ্যতা রাখেন। সুতরাং এটা প্রধানমন্ত্রী ও তার দপ্তরই নির্ধারণ করবে কবে, কখন ও কাদের নিয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করা হবে।’
একাদশ সংসদের বিরোধী দল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জাতীয় পার্টি যেহেতু দলগতভাবে আওয়ামী লীগের পর দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে, জাতীয় পার্টিই বিরোধী দলের আসনে বসবে। শেখ হাসিনা যদি আমন্ত্রণ জানান আর তারা গ্রহণ করে, তবে তারা মন্ত্রিসভায় যাবে। আর গ্রহণ না করলে জোটের অন্য শরিকদের দিয়ে সরকার গঠন করা হবে।’
নির্বাচন প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সব দিক থেকে এই নির্বাচনে গণমাধ্যম নির্বিঘ্নে কাজ করতে পেরেছে। আমি সেই দিক থেকে সন্তুষ্ট।’ তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার মহাকর্মযজ্ঞই মহাজোট সরকারের অভাবনীয় বিজয় এনে দিয়েছে। বিএনপি প্রার্থীদের আয়েশী মনোভাব ও মনোনয়ন নিয়ে বাণিজ্যই তাদের ভরাডুবির কারণ হলেও আরো অনেক কারণ রয়েছে। জ্বালাও, পোড়াও, হত্যা, ধ্বংসের অপরাজনীতি অনুসরণ করার ফলেও তাদের এই ভরাডুবি হয়েছে। এই নির্বাচনটা সবচেয়ে কম সহিংসতাপূর্ণ নির্বাচন, এই নির্বাচনটা সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন। এই নির্বাচনটা সবচেয়ে বেশি উৎসবমুখর নির্বাচন।’
পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে বিএনপির এ অভিযোগ প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এজেন্টরা প্রিসাইডিং অফিসারের কাছে অভিযোগের দরখাস্ত দিয়ে চলে যেতে পারতেন। আমার জানা মতে, বিএনপির এজেন্টরা কোনো লিখিত অভিযোগপত্র দেননি। এই অভিযোগটা প্রত্যাখ্যান করছি। তারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এজেন্ট দিতে পারেনি।’
দেশবাসীকে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে জাসদ সভাপতি বলেন, ‘বিএনপি পুনর্নির্বাচনের দাবির মধ্য দিয়ে একটা ষড়যন্ত্রের বীজ বপন করল, যা অশনিসংকেত হিসেবে দেখা দিচ্ছে।’ তারা ‘রাজনৈতিক বদঅভ্যাস’ পরিহার করে গণতান্ত্রিক ধারায় ফেরত আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
নতুন বছরে টেলিভিশন সাংবাদিকদের জন্য কোনো সুখবর আছে কিনা জানতে চাইলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যে ওয়েজবোর্ড গঠন করেছিলাম তাদের যে রিপোর্ট এসেছে, সেটা মন্ত্রিসভায় গেছে। মন্ত্রীদের নিয়ে যে উপকমিটি হয়েছে, ভোটের আগে সেই কমিটির একটি সভা হয়েছে। নতুন মন্ত্রিসভায় সেই সাব-কমিটি কাজ করবে। রিপোর্টে ইলেকট্রনিক মিডিয়ার জন্য ওয়েজবোর্ড দিতে হবে বলে একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা আছে। সুতরাং ওটা দেওয়ার জন্য প্রাথমিক প্রশাসনিক কাজটা সম্পন্ন হলে নতুন সরকার এবং তথ্য মন্ত্রণালয় এটা সম্পন্ন করবে। নতুন বছরে আমি আশা করছি, ইলেকট্রনিক মিডিয়ার কর্মীদের জন্য নতুন ওয়েজবোর্ড হবে।’
বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) সভাপতি শ্যামল সরকারের সভাপতিত্বে সংলাপে ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মহসীন আশরাফ উপস্থিত ছিলেন।