মুখের আলসার

মুখে আলসার হওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। কিছু কারণ চিহ্নিত করা যায় যা মুখের আলসার হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে। বেশির ভাগ মুখের ঘা ৭-১০ দিনের মধ্যে এমনিতেই ভালো হয়ে যায়। কিছু ঘরোয়া উপায় আছে, যার মাধ্যমে মুখের ঘায়ের ব্যথা ও প্রদাহ কমানো এবং নিরাময় করা যাবে।

লক্ষণ
আলসার হলে ব্যথা, জ্বলুনি, জ্বর এবং লসিকাগ্রন্থি ফুলে যেতে পারে। মুখে আঘাত, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম, শরীরে হরমোনের পরিবর্তন, অনেক বেশি চাপ, অত্যধিক ধূমপান, বংশগত কারণ, নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ, অ্যানেমিয়া, মুখে ভুল পণ্য ব্যবহার, ফুড অ্যালার্জি এবং ভাইরাসের ইনফেকশন মুখের আলসার হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে।

কিছু ঘরোয়া উপায় আছে যার মাধ্যমে মুখের ঘায়ের ব্যথা ও প্রদাহ কমানো যায় এবং নিরাময় করা যায়।

প্রতিকার
মুখের ঘা প্রতিকারে অ্যালোভেরা সবচেয়ে কার্যকরী প্রাকৃতিক উপায়। এতে অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল ও নিরাময়কারী উপাদান আছে যা ব্যথা ও প্রদাহ কমাতে এবং দ্রুত নিরাময়ে সহায়তা করে।

১. অ্যালোভেরার পাতা থেকে জেল বের করে মুখের ঘায়ের মধ্যে লাগান। এভাবে দিনে কয়েকবার। অথবা অ্যালোভেরার জুস দিয়ে দিনে তিন-চারবার মুখ পরিষ্কার করুন।

২. বেকিং সোডা ক্ষারীয়, তাই ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে ঘা নিরাময়ে সাহায্য করে। আধা কাপ উষ্ণ গরম পানিতে এক চামচ বেকিং সোডা মিশিয়ে মুখ পরিষ্কার করুন।

৩. মিল্ক অব ম্যাগনেসিয়ার অ্যান্টাসিড উপাদান মুখের এসিডকে নিষ্ক্রিয় করে যা মুখের ঘা এর তীব্রতা বাড়ায়। একটি কটন বলে মিল্ক অব ম্যাগনেসিয়া লাগিয়ে মুখের ঘায়ে লাগাতে পারেন দিনে তিন-চারবার।

৪. যদি আপনার মুখের ঘা ফুলে যায় তাহলে আলতোভাবে ঘষুন এবং যদি টনটন করে তাহলে লবণপানি দিয়ে গারগল করুন। লবণপানি দিয়ে গারগল করলে ঘায়ের চারপাশে লবণের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে, তাই কোষের ভেতরে অভি¯্রবণ প্রক্রিয়া শুরু হবে।

৫. মুখের ঘা যেহেতু সব সময় আর্দ্র থাকে তাই এই ঘা সারানোটা একটু কঠিন। শসা থেকে পানি বের করার জন্য যেমন ফিটকিরি পাউডার ব্যবহার করা হয়, ঠিক তেমনি মুখের ঘা শুকানোর জন্য ও ফিটকিরি পাউডার কাজ করে। ফিটকিরির একটা ছোট টুকরা সরাসরি মুখের ঘায়ের মধ্যে লাগান। এক মিনিট এভাবে রেখে দিন। এটা স্বাদে তিক্ত তাই ভালো লাগবে না, রসটুকু গিলে ফেলবেন না। ৬০ সেকেন্ড পরে লালাসহ ফিটকিরি বের করে ফেলুন। তবে মুখ ধুয়ে ফেলবেন না। এতে করে কয়েক মিনিটের মধ্যেই ব্যথা কমে যাবে। আপনার আলসারটি যেতে হয়তো দুই বা তিন দিন সময় লাগবে তবে ব্যথা চলে যাবে তাড়াতাড়ি। যদি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যথা না যায়, তাহলে প্রক্রিয়াটি আবার অনুসরণ করুন।

টিপস
১.  মুখের আলসার হলে অ্যাসিডিক খাবার এড়িয়ে চলুন।

২. অ্যান্টাসিড ট্যাবলেট মুখের ঘায়ে লাগিয়ে রেখে দিলে ব্যথা কমে যাবে ও নিরাময় হবে।

৩. হাইড্রোজেন পার অক্সাইড দিয়ে মুখ পরিষ্কার করলে ঘা ভালো হয়।

৪. প্রতিদিন টকদই খান।

৫.  লবঙ্গ তেল, মধু, নারিকেল তেল, ধনিয়া পাতা, গোলমরিচের পেস্ট, টি ব্যাগ ইত্যাদি ঘরোয়া ও প্রাকৃতিক উপাদানগুলোও মুখের আলসারের উপশমে কাজ করে।