কিডনির সবচেয়ে বড় শত্রু কী?

আপডেট : ০১ জুলাই ২০২৬, ১২:১৪ পিএম

শরীরের নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে কিডনি। প্রতিদিন রক্ত থেকে বর্জ্য পদার্থ ছেঁকে বের করা, দেহে তরলের ভারসাম্য বজায় রাখা, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করা এবং শরীরের বিভিন্ন খনিজের মাত্রা ঠিক রাখার মতো ভাইটাল সব কাজ করে এই অঙ্গটি।

কিন্তু বিপত্তি বাঁধে অন্য জায়গায়—কিডনির অসুখের সবচেয়ে বড় বিপজ্জনক দিক হলো, প্রথম দিকে এর কোনো স্পষ্ট লক্ষণ দেখায় না। ফলে রোগ যখন ধরা পড়ে, ততক্ষণে ক্ষতি যা হওয়ার হয়ে যায়। তাই কিডনি সুস্থ রাখতে প্রতিদিনের জীবনযাপনে একটু সচেতন হওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।

কিডনির মূল শত্রু কারা?
বর্তমান যুগে ডায়াবেটিস, স্থূলতা, একটানা বসে থাকার অভ্যাস এবং উচ্চ রক্তচাপের কারণে কিডনি রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে। চিকিৎসকদের মতে, কিডনির ক্ষতি হওয়ার পেছনে প্রধানত ৩টি কারণ দায়ী:

ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ: কিডনির সবচেয়ে বড় শত্রু হলো অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস এবং হাই ব্লাড প্রেসার। দীর্ঘদিন রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি থাকলে কিডনির সূক্ষ্ম রক্তনালিগুলো চিরতরে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অন্যদিকে, উচ্চ রক্তচাপ কিডনির ফিল্টারিং সিস্টেমের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে একে অকেজো করে দেয়।

যথেচ্ছ ব্যথানাশক ওষুধ (Painkillers): সামান্য মাথা ব্যথা বা শরীরে একটু অস্বস্তি হলেই ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়ার অভ্যাস অনেকেরই আছে। চিকিৎসকদের মতে, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত মাত্রায় ব্যথানাশক ওষুধ খেলে কিডনি বিকল হতে পারে।

অতিরিক্ত সাপ্লিমেন্ট: না বুঝে হুটহাট বিভিন্ন ফুড সাপ্লিমেন্ট বা প্রোটিন পাউডার খাওয়াও কিডনির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে।

কিডনি সুরক্ষিত রাখতে কোন কোন দিকে নজর দেবেন?
জীবনযাপনে বড় কোনো পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই, ছোটখাটো কিছু অভ্যাসে বদল আনলেই এই অঙ্গটিকে সুস্থ রাখা সম্ভব।

পানির পরিমাণ: কমও নয়, বেশিও নয়
চিকিৎসকদের মতে, কিডনি ভালো রাখার অন্যতম চাবিকাঠি হলো সঠিক মাত্রায় পারি খাওয়া। তবে অনেকেই মনে করেন, যত বেশি পানি পান করা যাবে, ততই ভালো—এই ধারণাটি ভুল ও বিপজ্জনক। শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী (সাধারণত ২ থেকে ৩ লিটার) পানি পান করতে হবে। অতিরিক্ত পানি উল্টো কিডনির ওপর চাপ বাড়ায়। পর্যাপ্ত পানি কিডনিকে বর্জ্য পদার্থ বের করে দিতে এবং পাথর হওয়ার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। 

নিয়মিত স্ক্রিনিং ও নিয়ন্ত্রণ
রক্তে শর্করার মাত্রা ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষা করানো জরুরি। সুষম আহার, লবণ কম খাওয়া, প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট শারীরচর্চা এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা কিডনি সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত জরুরি।

ওষুধ খাওয়ার অভ্যাসে রাশ টানা
শরীর খারাপ লাগলেই নিজে নিজে ডাক্তার সেজে ওষুধ খাওয়া বন্ধ করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি কোনো ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

কিডনি সুস্থ রাখা খুব কঠিন কোনো কাজ নয়। শুধু প্রয়োজন একটু সচেতনতা। আজই আপনার জীবনযাত্রায় এই ছোট ছোট পরিবর্তনগুলো আনুন এবং নীরব এই অঙ্গটিকে সুরক্ষিত রাখুন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত