কোক স্টুডিওর হাত ধরেই পাকিস্তানে সংগীত বিপ্লবের সূচনা। এই স্টুডিওর প্রতিটি এপিসোডেই আত্মপ্রকাশ করেন নতুন নতুন সংগীত প্রতিভা। মজার ব্যাপার হলো এসব প্রতিভার বেশির ভাগই পাকিস্তানের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে উঠে আসা। বিরল প্রতিভা নিয়েও খুব সাধারণ জীবনযাপন করতেন তারা।
পাকিস্তান বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য এবং গোত্র-উপগোত্রে সংমিশ্রিত। তাই দেশটিতে সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য বিরাজমান। দেশটির প্রত্যন্ত অঞ্চলের গায়কদের গান এবং সুরে এই বৈচিত্র্য ভালো করেই অনুধাবন করা যায়। সম্প্রতি খাইবার পাকতুয়ান প্রদেশের কালেশ উপত্যকা থেকে বিরল এবং ব্যতিক্রমী সংগীত প্রতিভা নিয়ে উঠে এসেছেন আরিয়ানা এবং আমরিনা নামে দুই বোন। সিন্ধু থেকে বিষ্ণু এবং সামু বাই নামে দুই ভাই-বোন ছাড়াও আজাদ কাশ্মীরের কাজামির আর বেলুচিস্তানের ত্রিযুগল মঙ্গল, দারেহান আর শায়ানের মতো বিরল সংগীত প্রতিভাগুলো কোক স্টুডিওর মাধ্যমে আন্তর্জাতিকভাবে বিখ্যাত হয়ে উঠেছেন।
বেলুচিস্তানের মঙ্গল, দারেহান এবং শায়ান একত্রে গান করেন। তাদের অনেক বয়স হয়ে গেছে। কিন্তু শেষ বয়সে এসে তারা তারকা বনে গেছেন। ১৪ বছরের ভাইকে সঙ্গে নিয়ে গান গেয়ে ২১ বছর বয়সের সামু বাই এখন পাকিস্তানের জনপ্রিয় শিল্পী। সিন্ধুর এক প্রত্যন্ত গ্রামে তারা বাস করতেন। স্থানীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান গেয়ে সামান্য আয় দিয়ে তারা সংসার চালাতেন। কোক স্টুডিও সিজন-১১-এর প্রযোজক যোহাইব কাজি বলেন, ‘এই স্টুডিওর কাজ হলো অন্ধকারে আলো ফেলে রত্ন খুঁজে বেড়ানো। আমরা আমাদের রত্নগুলোর চমক দেখাতে চাই সারা পৃথিবীকে।’