মিয়ানমারে বৌদ্ধ বিদ্রোহীদের হামলা ৭ পুলিশ নিহত

মিয়ানমারের ৭২তম স্বাধীনতা দিবসে রাখাইন প্রদেশের চারটি পুলিশ পোস্টে হামলা চালিয়েছে বৌদ্ধ বিদ্রোহীরা। গতকাল শুক্রবার ভোরের ওই হামলায় সাত পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। বৌদ্ধ বিদ্রোহীদের দল আরাকান আর্মি এ হামলার দায় স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় এ রাজ্যটিতে গত ডিসেম্বর থেকেই আরাকান আর্মি ও সামরিক বাহিনীর মধ্যে নতুন করে সহিংসতা শুরু হয়। জাতিসংঘ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক এই লড়াইয়ের জের ধরে অন্তত আড়াই হাজার বেসামরিক নাগরিক দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। আরাকান আর্মির মুখপাত্র খিন থু খা বলেন, গতকাল তারা চারটি পুলিশ পোস্টে হামলা চালান ও পরে সাতটি ‘শত্রু’ মৃতদেহ ছিনিয়ে নেন। তারা নিরাপত্তা বাহিনীর আরও ১২ সদস্যকে আটক করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি। আটকদের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘তাদের বিষয়ে আমরা আন্তর্জাতিক আইন অনুসরণ করব। তাদের কোনো ক্ষতি করব না।’

তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারের সেনাবাহিনী গত কয়েক সপ্তাহে আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে যে হামলা চালিয়েছে তার জবাবেই এ হামলা চালানো হয়েছে।’ মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী গত মাসেই দেশটির উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বিভিন্ন সশস্ত্র গ্রুপের সঙ্গে শান্তি আলোচনা শুরুর জন্য চার মাস লড়াই বন্ধের কথা জানিয়েছিল। তবে রাখাইন এর আওতায় ছিল না। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম গত মঙ্গলবারও একই গোষ্ঠীর চালানো আরেকটি হামলার খবর দিয়েছিল।

মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ঝাও মিন তুন বলেন, ‘শুক্রবারের হামলার জবাব দিয়েছে নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনী।’ যে চারটি পুলিশ পোস্টে হামলা হয়েছে সেগুলো বাংলাদেশের সীমান্ত লাগোয়া। তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তার স্বার্থে ওই অঞ্চলে সেনা অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

মিন তুন বলেন, ‘ওই এলাকায় বৌদ্ধ নৃ-গোষ্ঠীরা বসবাস করে এবং তারা মিয়ানমারের নাগরিক।’ এরা রাখাইনে থাকলেও রোহিঙ্গা নয় বলে নিশ্চিত করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, ‘ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের ৭১ বছর পূর্তিতে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের কয়েক মিনিট পর থেকেই হামলা শুরু হয়।’ আরাকান আর্মির খিন থু খা দাবি করেছেন, স্বাধীনতা দিবসের সঙ্গে এই হামলার কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি বলেন, ‘আমরা এখনো স্বাধীন নই। এটা আমাদের স্বাধীনতা দিবস নয়।’ রাখাইনে বৈষম্যের কথা উল্লেখ করে তিনি এ মন্তব্য করেন।

এদিকে এএফপি জানায়, আরাকান আর্মি রাখাইনে বৌদ্ধ জনগোষ্ঠীর বৃহত্তর স্বায়ত্তশাসন চায়। তাদের অভিযোগ, পুলিশ পোস্টগুলোকে সামরিক বাহিনী আর্টিলারি হিসেবে ব্যবহার করছে। খিন থু বলেন, ‘দুই সপ্তাহ আগে সেনাবাহিনী পুলিশকে যুদ্ধের মধ্যে নিয়ে আসে এবং সারা দিন ধরে সামরিক হেলিকপ্টার থেকে গুলিবর্ষণ করে।’

সম্প্রতি যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছে সেটি সামরিক বাহিনী একতরফাভাবেই করেছে বলে দাবি আরাকান আর্মির। তাদের দাবি, রাখাইনের শক্তি বৃদ্ধির জন্যই এটি করেছে সেনাবাহিনী। ২০১৭ সালে এই রাখাইনে ভয়াবহ সেনা অভিযানের মুখে লাখ লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।