প্রদীপের তলায় থাকে অন্ধকার। আধুনিক এই সভ্য সমাজে শিক্ষার আলো সর্বত্র ছড়ালেও এর মাঝেই এমন অনেক ঘটনা ঘটে যায় যা রীতিমতো ভয়ানক। পাপুয়া নিউগিনিতে কুসংস্কারের বলি হয়ে বীভৎস নির্যাতনের পাশাপাশি অনেক আদিবাসী নারী প্রাণ হারাচ্ছে। তথাকথিত ডাইনি শিকারের নামে নারীদের ধর্ষণ, নির্যাতন এবং বিভিন্ন কায়দায় আক্রমণ করা হয়। স্থানীয়দের বিশ্বাস, ডাইনিদের শিকার করতে পারলে গোত্রের কল্যাণ হবে।
সম্প্রতি প্রকাশিত এক ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, এক নারীকে ডাইনি আখ্যা দিয়ে ঘর থেকে টেনে বের করা হয়। এরপর তাকে প্রচণ্ড মারধরের পর একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে গত কয়েক বছরে এমন অন্তত ২০টি হত্যার ঘটনা ঘটেছে। অনেক নারী আছেন যারা নির্যাতনের শিকার হয়ে আহত হয়েছেন এবং কোনোদিন স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারেননি।
দেশটির রয়্যাল পাপুয়া নিউগিনি কন্সটাবুলারি নামের সংস্থার কাছে এমন বেশকিছু ভিডিও আছে। ওই ভিডিওগুলো আধুনিক সময়েও ডাইনি শিকারের নামে মানুষ হত্যার প্রমাণ দেয়। দেশটির তাস্ক ভ্যালির মতো প্রত্যন্ত অঞ্চলে দিনকে দিন ডাইনি শিকারের বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ছে বলে জানান সিনিয়র ইন্সপেক্টর ইপেন্স নিলি।
পাপুয়া নিউগিনি এবং পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে কালো জাদু এবং ডাকিনীবিদ্যার চর্চা বহুদিনের পুরোনো। তবে ওই অঞ্চলে ডাইনিদের হত্যা বা নির্যাতনের ঘটনা পুরোনো নয়।
গত পাঁচ বছর ধরে এমন নির্যাতন ও হত্যার ঘটনা ঘটছে। একদল গবেষক জানান, পাপুয়া নিউগিনির বিস্তৃত অঞ্চলে এমন নির্যাতনের ঘটনা নতুন। প্রাচীনপন্থীরা ভূতসহ অন্যান্য বিশ্বাসে বিশ্বাসী হলেও তাদের মধ্যে সহিংসতা নেই।
দেশটির এনগা প্রদেশের লুথেরান মিশনারি অ্যান্তন লুজ এ বিষয়ে বলেন, ‘পাঁচ বছর আগে হঠাৎ করেই এমনটা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে গত বছরে এর সংখ্যা বেড়েছে অনেক বেশি। প্রতি সপ্তাহেই এখন এমন হামলার ঘটনা ঘটছে। কোনো অঘটন বা সামাজিক সমস্যা ছাড়াই একদল মানুষ গুপ্তবিদ্যার চর্চাকারীদের ওপর হামলা চালাচ্ছে।’
এমন অনেক ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে গুপ্তবিদ্যায় পারদর্শীদের হত্যা করা হয় যার সঙ্গে তাদের কোনো হাতই ছিল না। রাস্তায় গাড়ি উল্টে আটজন নিহত হয়। কিন্তু এই ঘটনার জন্য গুপ্তবিদ্যায় পারদর্শী এক নারীকে ডাইনি বলে হামলা চালায় অনেকে। শুরুতে ছোট দল এই হামলার সঙ্গে থাকলেও ক্রমশ সাধারণ মানুষও কিছু না বুঝেই এসব হামলায় অংশগ্রহণ করে।
সূত্র : ডেইলি মেইল