হাঁকডাক আর ক্রেতাদের ভিড়ে মুখর হয়ে উঠেছে রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলো। বাজারজুড়ে এখন হরেক রঙের সবজির সমারোহ।
কোথাও শিম, কোথাও বেগুন, পটোল আবার কোথাও ফুলকপি, পাতাকপি, গাজর, টমেটো, মুলা, লাউ, শালগমসহ বিভিন্ন রকমের শাকসবজিতে ভরপুর প্রতিটি সবজির দোকান। এক সপ্তাহ আগে এমন ছিল না কাঁচাবাজারগুলোর চিত্র। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরবরাহ বন্ধ থাকায় সবজি সরবরাহ কমে গিয়েছিল। ফলে বাজারও ছিল ঊর্ধ্বমুখী। নির্বাচনের পর কাঁচাবাজারগুলোতে আসতে শুরু করেছে বিভিন্ন ধরনের সবজি। গত সপ্তাহ থেকে পণ্য ও বাজারভেদে ৫ থেকে ১০ টাকা কম দরে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, হাতিরপুল বাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে জানা যায় এসব তথ্য।
বিক্রেতারা বলছেন, নির্বাচনের আগে পাইকারি বাজারে সবজির সরবরাহ কম থাকলেও নির্বাচন শেষে বাড়তে শুরু করেছে সরবরাহ। তাই কমতে শুরু করেছে সবজির দাম। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ কিছু কিছু সবজির দাম এখনো বাড়তি। বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণে সবজির সরবরাহ থাকলেও বিক্রেতারা বিভিন্ন অজুহাতে তার দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। বাজার ঘুরে জানা যায়, কাঁচা মরিচসহ অন্যান্য সবজির দাম অপরিবর্তিত থাকলেও মিষ্টিকুমড়া, চিচিঙ্গা, ধুন্দল ও নতুন আলুর দাম বেশি। বরাবরের মতো মুরগি ও ডিমেও বাড়তি দাম। ফলে শীতে নতুন সবজিতে বাজার ভরপুর থাকলেও অস্বস্তি প্রকাশ করেন সাধারণ ক্রেতারা।
গতকাল বাজারে নতুন আলু বিক্রি হয়েছে ৩০ টাকা কেজিতে। তবে ৫ কেজির বেশি কিনলে কেজিতে মিলছে ২ টাকা কম। মিষ্টিকুমড়ার কেজি ৩০ টাকা ও ছোট পিস বিক্রি হয়েছে ৪৫ থেকে ৬০ টাকায়। বাজারভেদে এক কেজি ধুন্দল ৬০ টাকা, চিচিঙ্গার ঝাঁজটাও বেশি, ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।
কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা জাহাঙ্গীর বলেন, চিচিঙ্গা ও ধুন্দল এখনো বাজারে সেভাবে আসেনি, তাই দামও বেশি। তবে অন্য সবজি কম দামেই মিলছে।
তবে বাজার ও মানভেদে করলার দাম কমেছে ১০ টাকা। প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি হয়েছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, শিম ৩০ থেকে ৪০ টাকা, শসা ৩০ থেকে ৪০ টাকা। বাজারে প্রতি কেজি গাজর ৩০ থেকে ৪০ টাকা, ঢেঁড়স ৪০ টাকা, মুলা ৩০ টাকা, বেগুন ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কচুর লতি ৩০ থেকে ৪০ টাকা, করলা ৪০ থেকে ৫০ টাকা, শালগম ৪০ টাকা বিক্রি করতে দেখা গেছে। গত সপ্তাহে ছিল ১৫ থেকে ২০ টাকা। এখন বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকায়। কাঁকরোল ৪৫ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে গতকাল। লাউ প্রতিটি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, জালি কুমড়া ৩০ থেকে ৪০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। প্রতি আঁটি কলমি ও লালশাক ১০ থেকে ১৫ টাকা, লাউশাক ৩০ টাকা, পালংশাক ১৫ টাকা এবং পুঁইশাক ২০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।
সেন্ট্রাল রোডের বাসিন্দা মিথিলা রহমান বলেন, নির্বাচন গেছে কতদিন হলো এখনো নাকি সবজি ঠিকমতো আসছে না বাজারে। প্রতি সপ্তাহে বাজারে এসে বিক্রেতাদের একটা অজুহাত থাকেই। বাজারে আলু, চিচিঙ্গা, ধুন্দলের দাম বেশি। তাই কম করে কিনতে হচ্ছে।
শুক্রবার বাজারে ফুলকপি বিক্রি হয়েছে ২০ থেকে ২৫ টাকা পিস, বাঁধাকপি ১০ থেকে ২৫ টাকা, কাঁচা কলার হালি ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।
কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতার আবদুস সালাম বলেন, পাইকারিতে যে দামে কিনছি কিছু লাভ রেখে তার কাছাকাছি দামেই বিক্রি করছি। দাম বেশি হলে আমরা তো সেটা বুঝব না।
মোহাম্মদপুর টাউন হল মার্কেটে বাজার করেন মোশারফ হোসেন। তিনি জানান, সকালে এক পিস লাউ কিনেছি ৬০ টাকায়। মুলা ২০ টাকা কেজিতে এবং পালনশাক কিনেছি ১৫ টাকা আঁটি। সব মিলিয়ে দামটা একটু বেশিই মনে হলো। এর আগের সপ্তাহেও বেশি দামেই কিনতে হয়েছে সবজি।
এ ছাড়া পেঁয়াজসহ বেশিরভাগ সবজির দাম স্থিতিশীল রয়েছে। আগের সপ্তাহের মতো পুরোনো দেশি পেঁয়াজের কেজি ২৫ টাকা এবং নতুন দেশি পেঁয়াজ ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে শুক্রবার। আর আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকায়।
কাঁঠালবাগান ঢালের সবজি বাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, বাজারে এখন পেঁয়াজ পর্যাপ্ত। পুরো মৌসুমে ৪০ টাকার নিচে ছিলই না। তা কমে এখন ক্রেতাদের নাগালেই। তবে চাল, ডাল, তেল, মাছের দাম গত সপ্তাহের মতোই অপরিবর্তিত রয়েছে।
এদিকে সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি বিরাজ করলেও কমেনি মুরগি ও ডিমের দাম। ডিম পাইকারি ৯৮ টাকা, খুচরা ১০০ থেকে ১০৫ টাকা ডজন বিক্রি হয়েছে। কারওয়ান বাজারে ডিমের খাঁচি আগের সপ্তাহের মতো ২০০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। ডিম ব্যবসায়ীরা জানান, ডিমের চাহিদার তুলনায় এখনো সরবরাহ বাড়েনি। উৎপাদনও কম। এক সপ্তাহ আগে এক ডজন ডিম বিক্রি হয়েছে ৮৫ টাকায়। এখন সেই ডিম ১০০ টাকা ডজন বিক্রি করতে হচ্ছে আমাদের। গত সপ্তাহের মতোই ব্রয়লার মুরগি বাজারভেদে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি করতে দেখা গেছে। গরুর মাংসের কেজি বিক্রি হয়েছে ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকায়। খাসির মাংস বাজারভেদে প্রতি কেজি ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।