প্রথমবারের মতো মোংলায় চালু হচ্ছে কাস্টম কার্যক্রম

শুধু কার্যালয় মোংলায় এলেই সব সমস্যার সমাধান হবে না। ব্যাংকিং সেবা, সিঅ্যান্ডএফ, শিপিং এজেন্সিসহ বেশ কিছু কোম্পানির কার্যক্রম মোংলায় স্থানান্তর করতে হবে সিঅ্যান্ডএফ সভাপতি সুলতান আহম্মেদ

মোংলায় প্রথমবারের মতো শুরু হতে যাচ্ছে কাস্টমস কার্যক্রম। আগামী ২০ জানুয়ারি থেকে বন্দরে কাস্টমের নতুন ইউনিট চালু করা হবে বলে জানান মোংলা কাস্টম হাউসের কমিশনার সুরেশ চন্দ্র বিশ্বাস। তিনি আরও বলেন, খুলনার মোংলা কাস্টম হাউসের রপ্তানি ও আমদানি শুল্কায়নসহ সব কার্যক্রম চালু করতে এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

এর আগে মোংলা কাস্টম হাউস খুলনা থেকে বন্দর এলাকায় স্থানান্তরে সরকার কয়েক বছর আগে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। কাস্টম কর্তৃপক্ষ ও বন্দর সূত্র জানায়, ১৯৫০ সালের ১ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর হিসেবে মোংলায় কার্যক্রম শুরু হয়। মোংলা কাস্টম হাউস তখন থেকেই খুলনার খালিশপুরে হওয়ায় ব্যবসায়ীদের নানা ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবসায়ীরা আমদানি ও রপ্তানির সুবিধার্থে দীর্ঘদিন ধরে মোংলা কাস্টম হাউস বন্দরে স্থানান্তরের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। বেশ কয়েকবার নৌমন্ত্রী এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়ার পরও বন্দর কার্যক্রম স্থানান্তর হয়নি।

মোংলা বন্দর ব্যবহারকারী মেসার্স নুরু অ্যান্ড সন্স-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলহাজ এইচ এম দুলাল ও মেসার্স মায়া এন্টারপ্রাইজের পরিচালক আহসান হাবিব হাসান বলেন, মোংলা বন্দর থেকে সড়কপথে খালিশপুরের দূরত্ব প্রায় ৫৮ কিলোমিটার। কাস্টম হাউস খুলনায় হওয়ায় ব্যবসায়ীদের শুল্কায়নসহ পণ্য খালাসের জন্য দুই তিন দফা খুলনা-মোংলা যাতায়াত করতে হয়। এতে সময় নষ্টের পাশাপাশি ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এ অবস্থা ৬৮ বছর ধরে চললেও কাস্টমের কার্যক্রম মোংলা বন্দরে স্থানান্তর হয়নি। এখন হচ্ছে। এরপর থেকে পণ্য শুল্কায়ন ও খালাস কার্যক্রম সহজ হবে বলে মনে করছেন তারা। অন্যদিকে সিঅ্যান্ডএফ (ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরোয়ার্ডিং) অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. সুলতান আহম্মেদ বলেন, শুধু কার্যালয় মোংলায় এলেই সব সমস্যার সমাধান হবে না। শুল্কায়নের সঙ্গে বেশ কিছু কার্যক্রম জড়িত। ব্যাংকিং সেবা, সিঅ্যান্ডএফ, শিপিং এজেন্সিসহ বেশ কিছু কোম্পানির কার্যক্রম মোংলায় স্থানান্তর করতে হবে।

কমিশনার সুরেশ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে আমদানি ও রপ্তানি পণ্যের কাস্টম সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম খুলনা ও মোংলায় সম্পন্ন হয়ে আসছে। যেমন পণ্য পরীক্ষা, রামেজ (ঘোষণার অতিরিক্ত কোনো পণ্য জাহাজে আছে কিনা তা পরীক্ষা), ইপিজেড পণ্য পরীক্ষা ও শুল্কায়ন, পণ্য খালাস, প্রিভেন্টিভসহ (নিবারকমূলক কার্যক্রম) আনুষঙ্গিক কার্যক্রম মোংলা কাস্টম হাউসের বন্দর ইউনিটে হয়। অন্যদিকে সব প্রশাসনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি আইজিএম (জাহাজে আমদানিকৃত পণ্যের ঘোষণা) দাখিল, পণ্যের শুল্কায়ন, ব্যাংকিংসহ রাসায়নিক পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম খালিশপুরের মূল কার্যালয়ে হয়। মোংলা বন্দর উপদেষ্টা কমিটির ১৪তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২০ জানুয়ারি থেকে মোংলা ইউনিট থেকে সব কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এজন্য সংশ্লিষ্ট একাধিক দপ্তরে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এ কে এম ফারুক হাসান বলেন, ‘আমরা চাই যেকোনো মূল্যে মোংলা বন্দরেই কাস্টম কার্যালয় স্থানান্তরিত হোক। আপাতত আমাদের ট্রাফিক বিভাগের কিছু কক্ষ তাদের ছেড়ে দিয়েছি। কিন্তু তাতে পুরো কার্যক্রম সম্পাদন সম্ভব হচ্ছে না। এ সমস্যার দ্রুত সমাধান করা গেলে তা বন্দরের জন্যেই ভালো হবে।’