চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপকূলের গহিরার চরে বিষমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন শুঁটকিপল্লী গড়ে উঠেছে। এ পল্লী ঘিরে গ্রামের দরিদ্র নারীরা পেয়েছেন আয়ের সুযোগ।
জানা গেছে, আশির দশকের শুরুতে আনোয়ারা উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় শুঁটকি উৎপাদন শুরু হয়। মাঝে টানা কয়েক বছর নানা কারণে শুঁটকি উৎপাদনে ভাটা পড়ে। তবে কয়েক বছর ধরে আবার শুঁটকি উৎপাদনে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন এখানকার ব্যবসায়ীরা। সেই থেকে এই এলাকার উৎপাদিত শুঁটকি ব্যাপক পরিচিতি পাচ্ছে। এক্ষেত্রে গহিরা বেড়িবাঁধ সড়কসহ অবকাঠামো উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন করা হলে পরিবেশবান্ধব এ শুঁটকিপল্লী সরকারি রাজস্ব খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের। তাদের মতে, শুঁটকিশিল্পে ঋণপ্রাপ্তি নিশ্চিত করা গেলে রপ্তানিতে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
নিজস্ব অর্থায়নে গহিরার চরে শুঁটকি উৎপাদনের জন্য একটি মহাল তৈরি করেছেন স্থানীয় উদ্যোক্তা ও ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম। তিনি জানান, প্রতিদিন শত শত কেজি সামুদ্রিক মাছের শুঁটকি উৎপাদিত হচ্ছে এই মহালে। কোনো ধরনের কীটনাশক প্রয়োগ ছাড়াই প্রাকৃতিক উপায়ে উৎপাদন হচ্ছে এসব শুঁটকি। সমুদ্র-তীরবর্তী হওয়ায় এখানে পাওয়া যায় পর্যাপ্ত রোদ। বায়ু চলাচলেও নেই কোনো প্রতিবন্ধকতা। তাই রোদ ও বাতাসের সংমিশ্রণে দ্রুত কাঁচা মাছ শুঁটকিতে রূপান্তরিত হচ্ছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, সাগরে পাতানো ভাসান ও টঙ জালে আহরিত বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ জেলেদের নৌকা থেকে নামানো হচ্ছে। সেখানে জেলেদের কাছ থেকে পছন্দের মাছ কিনে মহালে নিয়ে যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। এসব মাছ প্রথমে মহালে সংরক্ষণ করা হয়। পরে পরিশুদ্ধ করার পর কাঁচা মাছে আংশিক লবণ মেশানো হয়। তারপর গিট তৈরি করে এগুলো শুকানোর জন্য ওই মহালের একাধিক মাচায় টাঙানো হয়। চিংড়ি-ফাইস্যা জাতীয় মাছগুলো বিছানো পলিথিনের চটে ছিটিয়ে শুকানো হয়। উৎপাদিত শুঁটকিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য- লইট্যা, ছুরি, ফাইস্যা, চইক্যা, পোপা ও চিংড়ি।
এখানে উৎপাদিত শুঁটকির স্বাদ ও গুণগত মান ভালো হওয়ায় চাহিদা আছে দেশজুড়ে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এসব শুঁটকি দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রির জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। স্থানীয় বাজারে খুচরায় প্রতি কেজি লইট্যা ৪০০-৫০০, ফাইস্যা ৩৫০-৪৫০, ছুরি ৭০০-৯৫০, বড় চিংড়ি (চাগাইছা) এক হাজার ৩০০ থেকে এক হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
জ্যেষ্ঠ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সৈয়দ হুমায়ুন মোরশেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, আনোয়ারা উপকূলে প্রায় ২০টি মহালে প্রচলিত নিয়মে শুঁটকি উৎপাদন করা হচ্ছে। বিষমুক্ত শুঁটকি উৎপাদনের ক্ষেত্রে জেলেদের সচেতনতামূলক পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ডিডিটি পাউডার বা কীটনাশক না মেশালে শুঁটকির প্রকৃত স্বাদ পাওয়া যায়।