যুক্তরাষ্ট্রে জরুরি অবস্থা জারির হুমকি ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রে জরুরি অবস্থা জারি করা হতে পারে বলে হুমকি দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত শুক্রবার হোয়াইট হাউসে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে বৈঠক-পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প এমন হুমকি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে এএফপি।

চলমান অর্থনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যে কেন জরুরি অবস্থা জারি করার সম্ভাবনা রয়েছে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো বক্তব্য তিনি দেননি। তবে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকোর দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ঠেকাতে এই জরুরি অবস্থা জারি করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

এ সময় সাংবাদিকরা তাকে জিজ্ঞেস করেন, কংগ্রেসের সমর্থন ছাড়া ট্রাম্প নিজেই দেয়াল নির্মাণ করার সক্ষমতা রাখেন কি না। এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ আমার আছে। আমি চাইলে এমনটা করতে পারি। আমরা দেশে জরুরি অবস্থা জারি করে খুব সহজেই দেয়াল নির্মাণ করতে পারি।’ বিবিসি জানিয়েছে, হোয়াইট হাউস এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ও পেন্টাগন জরুরি অবস্থা জারিতে ট্রাম্পের নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগের ব্যাপারে আলোচনা শুরু করছে।

হোয়াইট হাউসের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে এএফপি জানায়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাজেট ব্যবহার করে দেয়াল নির্মাণের বিষয়ে আলোচনা করছেন প্রেসিডেন্ট। এ ছাড়া আরো কিছু উপায় খুঁজে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্পের এক উপদেষ্টা ওয়াশিংটন পোস্টকে জানান, ট্রাম্পের নির্দেশে সীমান্তে সেনাবাহিনীর প্রকৌশলীদের পাঠানোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত।

হাফিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, হোয়াইট হাউসে শুক্রবারের বৈঠকে উভয় পক্ষই একে অপরের সমালোচনা করেন। ডেমোক্র্যাট সিনেটর চাক শুমার এবং হাউস স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি এই বৈঠককে ‘বিতর্কতাপূর্ণ’ আলোচনা বলে অভিহিত করেছেন। যদিও ট্রাম্প এই বৈঠককে ‘ফলদায়ক’ বলে উল্লেখ করেছেন।

জরুরি অবস্থা ঘোষণার হুমকির পাশাপাশি দেশে চলমান অচলাবস্থা কয়েক মাস কিংবা এক বছর ধরে চলারও হুমকি দেন ট্রাম্প। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘আমরা দেশের জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলছি। আমরা কোনো খেলা খেলছি না। আমাদের যা করা দরকার, আমি তাই করব।’

এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ২৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। শুক্রবার কিছু সরকারি কর্মচারীকে ম্যারিল্যান্ডে বিক্ষোভ করতে দেখা যায়। গতকাল শনিবার হোয়াইট হাউসের সামনেও বেশকিছু কর্মচারীকে প্ল্যাকার্ড নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। বিক্ষোভকারীরা অবিলম্বে অচলাবস্থা কাটিয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠান খোলার দাবি জানান।

গত ২২ ডিসেম্বর থেকে সর্বশেষ অচলাবস্থা শুরু হয় দেশটিতে। এতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার প্রায় আট লাখ কর্মীকে দুই সপ্তাহ ধরে বেতন ছাড়াই থাকতে হচ্ছে। এমনকি দেশটির কোস্টগার্ড সদস্যরাও বেতন ছাড়াই দায়িত্ব পালন করছেন।

গত বৃহস্পতিবার কংগ্রেসে ট্রাম্পের সীমান্ত নিরাপত্তা তহবিলে ১৩০ কোটি ডলার দেওয়ার প্রস্তাবসহ নতুন একটি বিল অনুমোদন করে। কিন্তু তাতেও অচলাবস্থা নিরসনে দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নিতে চাইছেন না ট্রাম্প। রিপাবলিকান পার্টির শীর্ষ নেতারা বলছেন, ট্রাম্পের সবুজসংকেত না পেলে তারা সিনেটে নতুন বিলের বিপক্ষে অবস্থান নেবেন।