একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন রাতে নোয়াখালীর সুবর্ণচরে দল বেঁধে ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তার উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক রুহুল আমীনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। গত শুক্রবার রাতে দলের জরুরি সভায় বহিষ্কারের এই সিদ্ধান্ত হয়। এর মধ্যে গতকাল শনিবার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ধর্ষণের শিকার ওই নারীর শারীরিক অবস্থার কিছুটা অবনতি হয়েছে বলে চিকিৎসক জানিয়েছেন।
সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ওমর ফারুক বলেন, কারও ব্যক্তিগত অপরাধের দায়িত্ব দল নিতে পারে না। গণধর্ষণের ঘটনায় জড়িতদের মধ্যে রুহুল আমীনের নাম উঠে আসায় তাকে উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার প্রাথমিক সদস্য পদও বাতিল করা হলো। এই মামলায় গ্রেপ্তার অন্যরা আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িত নয় তাই তাদের বিষয়ে দলের করণীয় কিছু নেই বলে তিনি জানান।
গত ৩০ ডিসেম্বর ভোটের দিন রাতে সুবর্ণচরের মধ্যবাগ্যা গ্রামে রুহুল আমীনের নেতৃত্বে তার একদল সহযোগী বাড়িতে গিয়ে স্বামী-সন্তানকে বেঁধে রেখে চল্লিশোর্ধ্ব ওই নারীকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় রুহুলসহ মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রুহুল সুবর্ণচরের চর জুবিলী ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য।
নোয়াখালী সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম তানভীর আহমেদ বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিন করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। রবিবার সুবর্ণচরের বিচারিক হাকিমের আদালতে শুনানি হবে।
ধর্ষণের শিকার ওই নারীর অভিযোগ, ভোটের সময় নৌকার সমর্থকদের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়েছিল। এরপর রাতে সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক রুহুল আমীনের ‘সাঙ্গোপাঙ্গরা’ বাড়িতে গিয়ে তাকে ধর্ষণ করে। ওই নারী এখন নোয়াখালী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ডাক্তারি পরীক্ষায় তাকে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে জানিয়ে এরই মধ্যে প্রতিবেদন দিয়েছে মেডিকেল বোর্ড।
নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. খলিলুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ওই নারীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে ইনফেকশন দেখা দিয়েছে। এর জন্য অ্যান্টিবায়োটিক চলছে। শরীর ও পা ফুলে গেছে। আস্তে আস্তে তা কমবে, ধৈর্য ধরতে হবে।