নির্বাচনে ‘সরকারের অনিয়মের’ বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করতে না পারার জন্য দলীয় শৃঙ্খলার অভাবকে দায়ী করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল শনিবার নোয়াখালী আইনজীবী সমিতির সঙ্গে মতবিনিময় সভায় দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শৃঙ্খলা না থাকায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি।
এর আগে দুপুরে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সুবর্ণচরে ধর্ষণের শিকার গৃহবধূকে দেখতে যান মির্জা ফখরুল। এ সময় ধর্ষণের শিকার নারীর মাথায় হাত বুলিয়ে সান্ত¡না ও অভয় দিয়েছেন তিনি। মির্জা ফখরুল আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, ‘বোন আমরা তোমার পাশে আছি। তোমার কোনো ভয় নেই। এই নির্মমতার অবশ্যই একদিন বিচার হবে। আল্লাহ বিচার করবেন।’ ধর্ষণের শিকার নারীকে সান্ত্বনা জানাতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন বিএনপি মহাসচিব, তাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে থাকেন ওই নারীর স্বামীও।
বিকেলে মতবিনিময় সভার একপর্যায়ে দলীয় নেতাকর্মীরা ‘অশান্ত হয়ে পড়লে’ তাদের শান্ত করতে বারবার চেষ্টা করতে দেখা যায় বিএনপি মহাসচিবকে। তিনি বলেন, ‘এই তোমরা থামো। প্লিজ তোমরা থামো। শুধু স্লোগান দিলেই হবে না।’ এ সময় ক্ষোভের সুরে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সব নিয়ে গেছে। আপনারা কেউ বাধা দিতে পারেন নাই। কারণ আমরা সংখ্যায় অনেক, আবেগ অনেক। কিন্তু শৃঙ্খলা নেই। সারা বাংলাদেশে এটাই হয়েছে। কেন পারেননি, কারণ আমরা মরার আগেই মরে যাচ্ছি। কেন মরে যাচ্ছি আমরা? কেন রুখতে পারছি না আমরা। কারণ আমরা শৃঙ্খলা না রেখেই যুদ্ধ করে যাচ্ছি।’ অনুষ্ঠানে ঐক্যফ্রন্ট নেতা আ স ম আবদুর রব বলেন, ‘আরও হামলা হবে, মামলা হবে। আমি একটা কথাই বলব, আমাদের আরও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’
ধর্ষিত নারীকে অভয় দিয়ে কেঁদে ফেললেন ফখরুল: ধর্ষণের শিকার নারীকে সান্ত্বনা জানাতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন বিএনপি মহাসচিব। এ সময়ে তার পাশে থাকা ওই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহানসহ অন্য নেতারাও ছিলেন অশ্রুসজল। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগের সভাপতি আবদুল কাদের সিদ্দিকীও ওই নারীকে মাথায় হাত বুলিয়ে সান্ত্বনা দেন।
গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ সংসদ নির্বাচনের রাতে নিজের বাড়িতে ধর্ষণের শিকার হন বাগ্যা গ্রামের এই নারী। স্বামী ও স্কুলপড়–য়া মেয়েকে বেঁধে রেখে তাকে স্থানীয় আওয়ামী লীগের এক নেতার সহচররা দলবেঁধে ধর্ষণ করে বলে ওই নারীর অভিযোগ। ওই নারীর অভিযোগ, ধানের শীষে ভোট দেওয়ায় ভোটকেন্দ্রে নৌকার সমর্থকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার জের ধরে তার ওপর এই নির্যাতন চালানো হয়। অভিযোগের মুখে থাকা সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক রুহুল আমীনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে আওয়ামী লীগ। ওই নারীর স্বামীর করা মামলায় ইতোমধ্যে সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।