শরিক ছাড়া হাসিনার প্রথম মন্ত্রিসভা

এই প্রথম শরিকদের বাদ দিয়েই মন্ত্রিসভা গঠন করতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। গতকাল রবিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ শেখ হাসিনা সরকারের যে ৪৬ সদস্যের মন্ত্রিসভার নাম ঘোষণা করেছে, সেখানে মহাজোটের শরিক দলের কোনো নেতার নাম দেখা যায়নি। এর আগে প্রতিবারই সমমনা বা শরিক দলের নেতাদের নিয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করা হলেও এবার এর ব্যত্যয় ঘটাল আওয়ামী লীগ।

অবশ্য মহাজোটের শরিক দলগুলো সরকারে থাকতে চাইলে পরে তাদের দলের অন্য কাউকে মন্ত্রিসভায় নিয়ে আসা হতে পারে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের কয়েকজন শীর্ষ নেতা। দেশ রূপান্তরকে তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী চান শরিক দলগুলো বিরোধী রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখুক। অবশ্য তারা চাইলে পরে মন্ত্রী করা হতে পারে, এমন আভাস শেখ হাসিনা দিয়েছেন। তবে এবার জাতীয় পার্টি থেকে কোনো নেতাকে মন্ত্রিসভায় না রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে মহাজোটের শরিক জাসদের সাধারণ সম্পাদক ও নৌকা প্রতীক নিয়ে ফেনী-১ আসন থেকে নির্বাচিত সাংসদ শিরীন আখতার দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা জোটে আছি, থাকব। কারণ সেই জঙ্গি তৎপরতা, মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, এসব দূর হয়নি। তবে মন্ত্রিসভায় বা সরকারে কীভাবে থাকব, সেটা আলোচনা করে ঠিক করব। আগামীকাল (আজ সোমবার) মন্ত্রিসভার শপথ শেষ হোক। এরপর আমরা বসব। সিদ্ধান্ত নেব কীভাবে সরকারে থাকব।

এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, কেন শরিক দলের কাউকে মন্ত্রী করা হলো না বা ভবিষ্যতে করা হবে কি না বিষয়টি সম্পূর্ণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এখতিয়ার। তবে আভাস রয়েছে যে, শরিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে প্রধানমন্ত্রী সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা অবিচল। কেবল মন্ত্রিসভা গঠিত হলো। নিশ্চয়ই তিনি শরিকদের ব্যাপারেও ভাববেন।

গত মন্ত্রিসভায় মহাজোটের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ, জাতীয় পার্টি (জাপা) ও জাতীয় পার্টি (জেপি) থেকে মন্ত্রী করা হয়েছিল। এর মধ্যে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন প্রথমে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী এবং পরে সমাজকল্যাণমন্ত্রী, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু তথ্যমন্ত্রী, জেপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন মঞ্জু প্রথমে বন ও পরিবেশ এবং পরে পানিসম্পদমন্ত্রী, জাপার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ প্রথমে পানিসম্পদমন্ত্রী এবং পরে বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী, মুজিবুল হক চুন্নু শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী এবং মসিউর রহমান রাঙ্গা স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী ছিলেন।

১৯৯৬ সালে ‘জাতীয় ঐকমত্যের’ সরকারে জাতীয় পার্টির আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ও জাসদের আ স ম আবদুর রবকে মন্ত্রী করেছিলেন শেখ হাসিনা। ২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রথম মেয়াদের মন্ত্রিসভায় জি এম কাদেরসহ জাতীয় পার্টির নেতাদের পাশাপাশি সাম্যবাদী দলের দিলীপ বড়ুয়াকে মন্ত্রী করেছিলেন তিনি। ওই সরকারের শেষ দিকে মন্ত্রী হন ইনু। এরপর ২০১৪ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে ইনুর সঙ্গে মন্ত্রিসভায় আনেন মেননকে। জাতীয় পার্টির নেতারাও মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হন।

এবারই প্রথম শরিক দলের নেতাদের বাদ দিয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করতে চলেছেন শেখ হাসিনা। গতকাল রবিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব শফিউল আলম সচিবালয়ে যে ৪৬ সদস্যের মন্ত্রিসভার নাম ঘোষণা করেন, সেখানে ২৫ মন্ত্রণালয়ের ১৮টিতেই পরিবর্তন এসেছে। বাদ পড়েছেন শরিক দলের সব মন্ত্রী।