‘অন্ধাধুন’ অন্ধত্ব আর খুনের গল্প

সুজন আহমেদ পরকীয়া এবং তার জেরে খুনোখুনি নিয়ে বলিউডে কম ছবি হয়নি।

কিছুদিন আগেই স্মৃতিতে জ্বলজ্বল করছে ইরফান খান অভিনীত ‘ব্ল্যাকমেইল’ ছবিটি। ব্ল্যাক কমেডি গোত্রের এই ছবিগুলো ট্রেন্ডসেট করে দিয়েছে অনেক আগেই। রয়েছে অপার বেঞ্চমার্ক। তারপরও প্রায় কাছাকাছি ধরনের আরেকটি ছবি ‘অন্ধাধুন’ কেন দেখবেন?

কারণ যেকোনো ভালো ছবির মতোই এ ছবির আখ্যান এক হয়েও আলাদা। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে টান টান রাখে সবাইকে। এমনকি সিনেপলিসের দামি খাবার মুখে পুরতেও ভুলে যেতে পারেন। ফসকেও যেতে পারে। হ্যাঁ, ঠিক এতটাই স্মার্ট এর চলন।

আয়ুষ্মান খুরানা আর টাবুুর কেমিস্ট্রি দেখার জন্যই এ ছবি আর একবার দেখা যায়। দেখা যায়, অমিত ত্রিবেদির মিউজিক শোনার জন্যেও। আর পরিচালক সম্পর্কে এটুকুই আপাতত বলা থাক, ‘জনি গদ্দার’, ‘বদলাপুর’, ‘এক হাসিনা থি’ দেখা থাকলে অনুমান করা যেতেই পারে ব্ল্যাক কমেডি নিয়ে কতটা খেলতে পারেন শ্রীরাম রাঘবন। সেই খেলা যেনতেন খেলা নয়, খুন নিয়ে খেলা। বলা ভালো, ছেলেখেলা ঠা-া মাথায় খুন। আর সে পাপকে ঘুরে অপরাধ ক্রমে একে একে ছড়িয়ে পড়া। বয়স্ক অভিনেতার সুন্দরী স্ত্রী। বোরিং জীবনযাপন। একঘেয়েমি কাটাতে পরকীয়া। আর তার জেরেই প্রেমিকের সঙ্গে ছক করে অভিনেতা খুন। অন্ধ মিউজিশিয়ান আকাশ (আয়ুষ্মান) সে কথা জেনে ফেলা। এভাবেই পাপচক্র ঘুরতে থাকা। এবং শেষমেশ পাপের কাউকে না ছাড়া।

আপাতত জটিল এই আখ্যান অসাধারণ হয়ে ওঠে গল্প বলার ধরনে। ক্যামেরা ও সম্পাদনা যথেষ্ট টাইট। অভিনয়ের কথা তো আগেই বলেছি। তবে সব মিলিয়ে অনেকদিন পর একটা কমপ্লিট সিনেমা দেখছি বলে মনে হলো। বলিউডের এই বিকল্পধারার ছবিগুলো থেকে ট্রিটমেন্ট শেখার আছে বলে মনে হয়। এই যে এ ছবিতে একবারও অপরাধকে নেগেটিভভাবে না দেখিয়ে স্মার্টভাবে ডিল করা হলো, এ থেকে শেখার আছে। অনুরাগ কাশ্যপের হাত ধরে বলিউড এই পরিণতিতে আগেই এসেছিল। ব্যাক কমেডি, রিভেঞ্জ স্টোরি কোন মাত্রায় যেতে পারে, তা অনুরাগ যথেষ্টই দেখিয়েছেন। ‘অন্ধাধুন’ দেখে সে কথাই বারবার মনে হচ্ছিল।

সত্তর দশকের ছবিকে ট্রিবিউট স্পষ্টভাবেই দেওয়া এ ছবির সংগীতে। পিয়ানোকে আখ্যানের প্রয়োজনে যেভাবে ব্যবহার করা হয়েছে তা অনবদ্য। কমপ্লেক্স নোট এবং ততধিক জটিল আখ্যানের সঙ্গতে জোরালো হয়ে ওঠে আখ্যান। যখনই মনে হয় পরের ঘটনা বোধ হয় এমন, তখনই তা বদলে দেন পরিচালক। সাইকোলজি নিয়ে একধরনের ডুয়েল খেলেছেন পরিচালক। যা আখ্যানকে লেজ থেকে ক্রমেই খেয়ে ফেলে।

রাধিকা আপ্তের মতো গুণী অভিনেত্রীকে কি আরেকটু ব্যবহার করা যেত না? এটা ছবি শেষ হওয়ার পর বারবার মনে হলো। তবে, এ ছবির লোকেশন অনবদ্য। এ গল্পটা পরকীয়া ও তার জেরে খুনের অপরাধের। তাই অনায়াসে তা শ্যুট করাই যেত মুম্বাই বা দিলির মতো বড় শহরে। কিন্তু সেই আড়ম্বরের বদলে এখানে পুনের মতো ছোট শহর বেছে নেওয়া হলো। প্রভাত রোড, গুড লাক ক্যাফে বা পারশি কোয়ার্টার কি অনবদ্যভাবে মানিয়ে যায় আখ্যানের সঙ্গে।