হবিগঞ্জের নবীগঞ্জের কলেজছাত্রী তন্বী রায় (১৯) হত্যা মামলায় প্রেমিক রানু রায়েরমৃত্যুদন্ড হয়েছে। ফাঁসিতে ঝুলিয়ে এ দন্ড কার্যকর করতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। গতকাল সোমবার সিলেট বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক রেজাউল করিম এ রায় দেন।
রায়ে মৃত্যুদন্ডের পাশাপাশি রানু রায়কে ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং ২০১ ধারায় আরো তিন বছরের কারাদ-, অনাদায়ে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। রানু রায় (২৫) হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার জয়নগর গ্রামের বাসিন্দা। নিহত তন্বী রায় একই উপজেলার শিবপাশা শ্যামলী আবাসিক এলাকার বিমল রায়ের মেয়ে।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ থেকে জানা যায়, তন্বী রায়ের সঙ্গে রানু রায়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ২০১৬ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর তন্বী রায় নবীগঞ্জ শহরের একটি কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টারে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর ২০ সেপ্টেম্বর নবীগঞ্জ শহরতলির একটি নদী থেকে তন্বী রায়ের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তন্বীর বাবা রানু রায়কে একমাত্র আসামি করে নবীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ একই বছরের ৭ অক্টোবর রানু রায়কে গ্রেপ্তার করে। পরদিন হবিগঞ্জের আদালতে রানু রায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তন্বীকে হত্যার বিবরণ দেন। ১৯ ডিসেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মো. আজমিরুজ্জামান রানু রায়কে অভিযুক্ত করে হবিগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে চাঞ্চল্যকর এই মামলাটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ কর্তৃক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে হবিগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত থেকে সিলেট বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়।