শ্রমিকদের নতুন মজুরি কাঠামো বাস্তবায়নসহ বেতন বাড়ানোর দাবিতে গতকাল সোমবারও রাজধানীর উত্তরা, দক্ষিণখান, গাজীপুর ও সাভারে বিভিন্ন পোশাক কারখানার সড়কে নেমে বিক্ষোভ করেছে শ্রমিকরা। তারা একটি বাসে অগ্নিসংযোগসহ বেশ কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর করে। তাদের সঙ্গে পুলিশের কয়েক দফা সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়। বেলা ৩টা পর্যন্ত বিমানবন্দর এলাকাসহ ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে যান চলাচল অন্তত পাঁচ ঘণ্টা বন্ধ থাকে। সংশ্লিষ্ট এলাকার পুলিশ কর্মকর্তা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিজস্ব প্রতিবেদক ও স্থানীয় প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে বিস্তারিত।
বিমানবন্দর থানার ওসি নূরে আযম মিয়া, উত্তরা (পশ্চিম) থানার ওসি আলী হোসেন ও উত্তরা (পূর্ব) থানার ওসি নূরে আলম সিদ্দিক জানান, সোমবার সকাল ৯টা থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের আব্দুল্লাহপুর, আজমপুর ও হাউস বিল্ডিং এলাকায় সড়কে নেমে আসে শ্রমিকরা। দুপুর ২টার দিকে বিমানবন্দর গোলচত্বর সংলগ্ন সড়কে এনা পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেয় এবং আরও ৪/৫টি বাস ও প্রাইভেটকার ভাঙচুর করে তারা। বেলা ৩টা পর্যন্ত সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল শুরু হয়। উত্তরার মতোই দক্ষিণখানের চালাবন এলাকায় পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়।
সোমবার দুপুরে দক্ষিণখানের নিপা গার্মেন্টসের মালিক খসরু চৌধুরী পুলিশের সহায়তায় ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার নাবিদ কামাল শৈবাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘সরকারি মজুরি কাঠামো অনুযায়ী বেতন দেওয়ার জন্য শ্রমিকদের যে দাবি তা ন্যায্য। আমরা শ্রমিকদের পাশে আছি। কিন্তু ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ বা বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করলে আমরা শ্রমিকদের পক্ষে থাকব না।’ গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গাছা থানার ওসি মো. ইসমাইল হোসেন জানান, গাজীপুরের সাইনবোর্ড এলাকার ইস্ট-ওয়েস্ট গ্রুপের কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা সকাল ১০টার দিকে কারখানার সামনে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নেয়। পরে কুনিয়া এলাকার লিজ ফ্যাশন ও রূপা গার্মেন্টের শ্রমিকরাও কারখানা থেকে বের হয়ে সড়কে অবস্থান নেয়। পুলিশ মহাসড়ক থেকে শ্রমিকদের সরাতে গেলে তাদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দিলে বেলা ১২টার দিকে যান চলাচল শুরু হয়।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের এসি ট্রাফিক (সাউথ) থুয়াই অং প্রু মারমা বলেন, এ সময়ের মধ্যে গাজীপুর ছাড়াও ঢাকার আব্দুল্লাহপুরে শ্রমিক বিক্ষোভের কারণে ঢাকাগামী যানবাহনকে টঙ্গীর কামারপাড়া রোড এবং ভোগড়া বাইপাস মোড় থেকে পূর্বাচলের তিনশ ফুট সড়ক দিয়ে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়।
সাভার
আশুলিয়া শিল্পপুলিশ-১-এর পরিচালক সানা শামিনুর রহমান জানান, সোমবার সকাল ৮টার দিকে হেমায়েতপুর বাগবাড়ি মহল্লার স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের সামস স্টাইলিং ওয়্যারস লিমিটেড এবং টিসিএল-২ কারখানার শ্রমিকরা ট্যানারি সড়কে অবস্থান নেয়। পুলিশ জলকামান ও লাঠিপেটা করে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের সরিয়ে দিলে ঘণ্টাখানেক পর সড়কটিতে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।