প্রেস ক্লাবে বিচারপতি মানিক

সুবর্ণচরে ধর্ষণ নেহাত ব্যক্তিগত কারণে

ভোটের দিন রাতে নোয়াখালীর সুবর্ণচরে এক নারীকে দল বেঁধে ধর্ষণের ঘটনার সঙ্গে রাজনীতির সম্পর্ক নেই বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক। গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তিরা ওই ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের নেতৃত্বে একজন আওয়ামী লীগ নেতা আছেন বটে। তবে ওই আওয়ামী লীগ নেতা আসলে আওয়ামী লীগে ছিলেন না, বিএনপি করতেন। ’ঘটনায় রাজনীতির সম্পর্ক কিন্তু খুবই কম। ঘটনাটি নেহাত ব্যক্তিগত কারণে ঘটেছে। আমাদের মহিলা সমিতির দুজন ইতোমধ্যে তাদের বাড়ি ঘুরে এসেছেন। তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। অভিযুক্ত ব্যক্তি অতীতে বিএনপিতে ছিলেন, নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগে জয়েন করেন।’

গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রাতে সুবর্ণচরের মধ্যবাগ্যা গ্রামে স্বামী-সন্তানকে বেঁধে রেখে চল্লিশোর্ধ্ব এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। ওই নারীর অভিযোগ, ভোটের সময় ধানের শীষে ভোট দেওয়া নিয়ে নৌকার সমর্থকদের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়েছিল। এরপর রাতে সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক রুহুল আমীনের সহযোগীরা বাড়িতে গিয়ে তাকে ধর্ষণ করে। ওই নারীর ভাষ্য, ধর্ষণকারীদের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত কোনো বিরোধ ছিল না, ভোট দেওয়া নিয়ে বিতণ্ডার জের ধরেই তার বাড়িতে হানা দেয় তারা। এ ঘটনায় ওই নারীর স্বামীর করা মামলায় রুহুল আমীনসহ ১০ জন গ্রেপ্তার হয়েছে। তাকে দল থেকেও বহিষ্কার করা হয়েছে।

জাগো বাংলা ফাউন্ডেশনের আয়োজনে ‘নির্বাচন-২০১৮ : অপরাজনীতির প্রস্থান ও নতুন অধ্যায়ের সূচনা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য শমসের মবিন চৌধুরী, ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল মান্নান চৌধুরী, সাবেক সেনা কর্মকর্তা মো. আলী সিকদার ও সাংবাদিক সুভাষ সিংহ রায় বক্তব্য দেন।

নির্বাচনে অনিয়মের বিষয়ে বিচারপতি শামসুদ্দিন বলেন, ‘এবারের নির্বাচনে নেপাল থেকে, ভারত থেকে, ওআইসি, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে পর্যবেক্ষকরা এসেছিলেন। কেউ মৌলিক অনিয়মের কোনো কথা বলেননি। পৃথিবীর কোনো দেশেই একশ ভাগ অনিয়মহীন নির্বাচন হয় না। এদেশে একেবারে একশ ভাগ ‘ধোয়া তুলসীপাতার’ নির্বাচন হবে, এটা আশা করা যায় না।’

শমসের মবিন চৌধুরী বলেন, ‘অপরাজনীতি থেকে দূরে থাকতেই বিএনপি থেকে বেরিয়ে এসেছি। তবে সামনে অসাম্প্রদায়িক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ গড়া সম্ভব হবে। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী চেতনার অপশক্তিকে আশ্রয় দিতে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনের অনেক লড়াকু সৈনিকও হেরে গেলেন গত ৩০ তারিখের নির্বাচনে।’