স্বাধীনতার পর এই প্রথম মন্ত্রিত্ব পাননি কিশোরগঞ্জ ও সিরাজগঞ্জের কোনো জনপ্রতিনিধি। আওয়ামী লীগ, বিএনপি বা জাতীয় পার্টি সব আমলেই মন্ত্রী পেয়েছিল এ দুই জেলা। মুক্তিযুদ্ধকালে গঠিত মুজিবনগর সরকারেও ছিল এখানকার প্রতিনিধিত্ব। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত নতুন মন্ত্রিপরিষদে কেউ স্থান না পাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করলেও আশা ছাড়েননি দুই জেলার বাসিন্দা ও রাজনীতিকরা।
এবারের নির্বাচনে কিশোরগঞ্জের পাঁচ সংসদ সদস্যের চারজনই টানা তিনবার নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে সেখান থেকে এক বা একাধিক মন্ত্রী হবেন এমন আশা ছিল জেলাবাসীর। কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সদ্যপ্রয়াত সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সর্বশেষ মন্ত্রিসভায় জনপ্রশাসনমন্ত্রী ছিলেন। কিশোরগঞ্জ-৩ এর সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির মজিবুল হক চুন্নু ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী। এবার কিশোরগঞ্জ-২ আসন থেকে নির্বাচিত সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদ মন্ত্রিত্বের ডাক পাবেন বলে আলোচনা ছিল। কিশোরগঞ্জ-৪ এর সংসদ সদস্য রাষ্ট্রপতিপুত্র রেজওয়ান আহম্মেদ তৌফিক এবং কিশোরগঞ্জ-৫ এর আফজাল হোসেনকে নিয়েও আশায় ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট কামরুল আহসান শাহজাহান বলেন, ‘সরকারই হলো কিশোরগঞ্জ আর গোপালগঞ্জের। কিশোরগঞ্জের রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ আর গোপালগঞ্জের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন। মন্ত্রিসভায় জেলার কারও নাম না আসায় হয়তো চমক আছে। আমরা অপেক্ষায় আছি।’ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এম এ আফজাল বলেন, ‘কিশোরগঞ্জে সৈয়দ আশরাফও নেই, এবার কোনো মন্ত্রীও নেই। এ যেন কষ্টের ওপর আরও কষ্ট।’
অন্যদিকে সিরাজগঞ্জ থেকে সর্বশেষ মন্ত্রিসভায় ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। এবারের নির্বাচনে জেলার ৬টি আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা বিপুল ভোটে জয়ী হওয়ায় এক বা দুইজন মন্ত্রী পাওয়ার আশা ছিল দলীয় নেতাকর্মী ও জেলাবাসীর। শিয়ালকোল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন বলেন, ‘আশা করেছিলাম জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ এম মনসুর আলীর ছেলে মোহাম্মদ নাসিম আবার মন্ত্রিত্ব পাবেন। বাকি ৫ আসনে নির্বাচিতদের মধ্যে আরও একজনকে প্রতিমন্ত্রী দেওয়া হবে। কিন্তু জেলার কেউ মন্ত্রিত্ব না পাওয়ায় আমরা হতাশ হয়েছি।’ জেলা উন্নয়ন ফোরামের সভাপতি মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ বলেন, উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার সিরাজগঞ্জে প্রতিটি সরকারের আমলে মন্ত্রিত্ব দেওয়া হয়েছিল। এ জেলা থেকে প্রধানমন্ত্রী ও উপপ্রধানমন্ত্রীও হয়েছিলেন। এবার মন্ত্রী না থাকায় উন্নয়ন কর্মকা- কিছুটা হলেও ধীরগতির হবে।