মা-বাবার মৃত্যুর পর শান্তও বেছে নিল আত্মহত্যার পথ

মো. শান্ত। বয়স মাত্র ১৪ বছর। জেলার রামগঞ্জ উপজেলার নাগমুদ উচ্চ বিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী। জন্মের পর নানান প্রতিকূলতার মাঝে পরিবারে বড় হয়েছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক ক্যানসারে মা ও হৃদরোগে বাবার মৃত্যুর পর নিজেও বেছে নিলেন আত্মহত্যার পথ।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিষপানে আত্মহত্যা করেন মো. শান্ত। তার মৃত্যুতে বাড়ি ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

জেলার রামগঞ্জ উপজেলার ৯ নম্বর ভোলাকোট ইউনিয়নের শাকতলা গ্রামের পশ্চিম ফকির বাড়িতে এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে ও স্থানীয় লোকজন জানান, নাগমুদ উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. শান্তর মা নুরজাহান বেগম ২০১৬ সালে দুরারোগ্য ব্যাধি ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়ার কিছুদিন পরেই বাবা সিদ্দিক উল্যা দ্বিতীয় বিয়ে করেন।

বাবার দ্বিতীয় বিয়ে মেনে নিতে পারেনি শান্ত। সংসারে কলহ লেগেই থাকতো। মাত্র এক বছরের মাথায় ২০১৭ বাবা সিদ্দিক উল্যা হৃদরোগে মারা গেলেও একমাত্র অভিভাবক ও বাবার মৃত্যুর পর ছেলে শান্ত পড়ে যায় অকুল সাগরে।

শান্তর চাচা সেলিম মিয়া জানান, শান্তর বাবার মৃত্যুর পর আমরা চেয়েছি তার দায়িত্ব নিতে কিন্তু পারিপার্শ্বিকতার কারণে তা হয়নি।

এদিকে ঘরে রয়েছে সৎমা। সংসারের এমন অবস্থায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে পারিবারিকভাবে বিদায় দেওয়া হয় শান্তর সৎমাকে।

নিকটাত্মীয় ফারুক সালেকিন জানান, নাগমদু স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. শান্ত মা ও বাবার মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে হতাশায় নিমজ্জিত ছিল। এ হতাশার কারণেই মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিষপান করে। বাড়ির লোকজন তাকে দ্রুত উদ্ধার করে রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি আরও বলেন, এমন মৃত্যু আমাদের কাম্য নয়। উক্ত বিদ্যালয়ের একজন এসএসসি পরীক্ষার্থীও গত কয়েকদিন আগে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে। স্কুলে এ বিষয়ে নার্সিং করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

রামগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ফজলুর রহমান জানান, এ বিষয়ে কারো পক্ষ থেকে অভিযোগ না পাওয়ায় শান্তকে তার নিকটাত্মীয় দাফনের ব্যবস্থা করেন।