বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) মঙ্গলবার দিনটি নিজের করে নিয়েছেন মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বিপক্ষে রংপুর অধিনায়ক ৪ উইকেট নিয়েছেন মাত্র ১১ রান খরচায়। সব ধরনের টি-টোয়েন্টি মিলে মাশরাফীর এটি ক্যারিয়ার সেরা বোলিং।
কিন্তু মাশরাফী নিজের এই পারফরম্যান্সকে খুব বেশি বড় করে দেখতে চান না। বাংলাদেশ দলের ওয়ানডে অধিনায়কের কাছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পারফরম্যান্সই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
এদিন আগে ব্যাট করতে নেমে মাশরাফীর তোপে মাত্র ৬৩ রানে গুটিয়ে যায় কুমিল্লা। ৮ ওভার হাতে রেখেই ৯ উইকেটের জয় তুলে নেয় মাশরাফীর রংপুর। ম্যাচ সেরা মাশরাফীর বোলিং ফিগার এমন- ৪-১-১১-৪। টি-টোয়েন্টিতে এর আগে মাশরাফীর সেরা বোলিং ছিল ১৯ রানে ৪ উইকেট। ২০১২ সালে বেলফাস্টে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ছিল ওই পারফরম্যান্স।
এদিন সেই পারফরম্যান্সকে ছাড়িয়ে যাওয়া মাশরাফী কি মনে করেন, এটা তা নিজের ম্যাচ? সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রশ্নের উত্তরে মাশরাফী বললেন, ‘‘আমি সব সময় আন্তর্জাতিক ম্যাচ কাউন্ট করি। আমার কাছে আন্তর্জাতিক ম্যাচের গুরুত্ব আরো বেশি। অবশ্যই আমি যখন যেটা খেলি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে খেলার চেষ্টা করি। কিন্তু যদি আপনি স্পেশালি কাউন্ট করার কথা বলেন, আন্তর্জাতিক ম্যাচই আগে কাউন্ট হবে।’’
‘‘এই সব ম্যাচ আমি শতভাগ দিয়ে খেলি। আন্তর্জাতিক ম্যাচ যেমন শতভাগ খেলি, এগুলোও শতভাগ দিয়ে খেলি। কাউন্টের ক্ষেত্রে শুধু আন্তর্জাতিক ম্যাচ কাউন্ট করি।’’
মাশরাফীর বোলিংয়ের মুখে মাত্র ১৮ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল কুমিল্লা। এরপর আর দাঁড়াতে পারেনি দলটি। মাশরাফী এক স্পেলেই পুরো ৪ ওভারের কোটা শেষ করেন। প্রথম ওভারে উইকেট না পেলেও মাত্র ৫ রান ব্যয় করেন। দ্বিতীয় ওভারে ৪ রান খরচায় নেন তামিম ইকবালের উইকেট।
পরের ওভারে মাত্র দুই রান খরচায় ইমরুল কায়েস ও এভিন লুইসের উইকেট তুলে নেন। চতুর্থ ও শেষ ওভারে ফেরান স্মিথকে। মাশরাফী নিজের বোলিং নিয়ে বলছিলেন, ‘‘প্রথম বলটা করার পর মনে হয়েছে উইকেটে ডাবল পেস হওয়ার সুযোগ আছে। তো ওখান থেকেই মনে হচ্ছিল রাইট লাইনে করতে পারলে ভালো কিছু পাওয়া যেতে পারে। লাকি আমরা যে আগে উইকেটগুলো নিতে পেরেছি। আমার কাছে মনে হয় রাইট লাইনে বল করাটা খুবই জরুরি।’’
৩৫ বছর বয়সেও ঠিক তারুণ্যের মতো ঝলমলে পারফরম্যান্স মাশরাফীর। তরুণদের জন্য যা উদাহরণ বটে। কিন্তু মাশরাফী তরুণদের নিবেদনকে ছোট করে দেখতে চান না, ‘‘সবাই চেষ্টা করছে। সব সময় যে সব খেলোয়াড়ের ঠিক মতো যায় তা নয়। আর দেখা গেল এখন আমার ঠিক মতো যাচ্ছে, পরে আমারও খারাপ হতে পারে।’’
‘‘টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট খুবই আনপ্রেডিক্টেবল। আমরা যে উইকেটে খেলছি এটাও আনপ্রেডিক্টেবল। দুই-তিন ম্যাচে কাউকে হাইলাইটস করা যেমন কঠিন, খারাপ-ভালো দুই দিকেই বিচার করাও খুব কঠিন।’’