রিজার্ভ চুরি

মামলা করতে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল

প্রায় তিন বছর আগে চুরি হওয়া বাংলাদেশের রিজার্ভের অর্থ ফেরত পেতে মামলা করতে যুক্তরাষ্ট্রে গেছে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদল। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলামের

নেতৃত্বাধীন দলটির সদস্যরা যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল (ফেড) রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্ক ও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আইনি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সভার পর মামলা করে আসবেন বলে জানা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এ মামলার বাদী হবে। আন্তর্জাতিক নিয়মানুযায়ী, অর্থ ফেরত পাওয়ার জন্য বাংলাদেশকে আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যেই মামলা করতে হবে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংক (আরসিবিসি) ও ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের বিরুদ্ধে মামলা করবে বাংলাদেশ। গত ডিসেম্বরেই এ মামলা করার প্রস্তুতি নিয়েছিল অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে নির্বাচনের কারণে তা সম্ভব হয়নি। গত সোমবার রাত ১টার ফ্লাইটে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম ও বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইনটেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) পরামর্শক দেবপ্রসাদ দেবনাথসহ প্রতিনিধিদলটি যুক্তরাষ্ট্রে গেছে। মামলা দায়েরের সবকিছু চূড়ান্ত করে আগামী ১০ জানুয়ারি দেশে ফিরবেন তারা।

এ বিষয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা সরাসরি কিছু বলতে রাজি হননি। তারা বলছেন, মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে। যারা যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন তারা সেখানে ফেড ও আইনি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করে মামলা করবেন। সেখানে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি।

বিএফআইইউ’র প্রধান আবু হেনা মোহা. রাজী হাসান গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রিজার্ভের অর্থ উদ্ধারে মামলা করার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে একটি প্রতিনিধিদল যুক্তরাষ্ট্রে গেছে। তারা দেশে ফেরার পর এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।’

২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্কে রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়। পাঁচটি সুইফট বার্তার মাধ্যমে চুরি হওয়া এ অর্থের মধ্যে শ্রীলঙ্কায় যাওয়া ২ কোটি ডলার ফেরত আসে। তবে ফিলিপাইনে যাওয়া ৮ কোটি ১০ লাখ ডলারের মধ্যে এখনো ফেরত পাওয়া যায়নি ৬ কোটি ৬৪ লাখ ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান, ফেরত না পাওয়া অর্থের মধ্যে ফিলরেম মানি রেমিটেন্স কোম্পানির কাছে আছে ১ কোটি ৭০ লাখ ডলার। ওই অর্থ নিয়ে ফিলিপাইনের অ্যান্টি মানি লন্ডারিং কাউন্সিলের একটি বাজেয়াপ্তকরণ মামলা দেশটির আদালতে চলছে। সোলায়ার নামের একটি ক্যাসিনোতে থাকা ২ কোটি ৯০ লাখ ডলার ফিলিপাইনের আদালত জব্দ করে রেখেছে; এ বিষয়ে আরেকটি মামলা বিচারাধীন। আর কিম অং ক্যাসিনোতে যাওয়া ২ কোটি ১০ লাখ ডলারের মধ্যে দেড় কোটি ডলার ফেরত পাওয়া গেছে। আরও প্রায় এক কোটি ৪০ লাখ ডলারের এখনো কোনো খোঁজ মেলেনি।

সদ্যবিদায়ী অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সম্প্রতি সাংবাদিকদের জানান, ফেড ও আরসিবিসি’র বিরুদ্ধে মামলা করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। মামলার প্রস্তুতি চলছে। গত সেপ্টেম্বরে তিনি বলেছিলেন, ‘সময় শেষ হয়ে আসছে। মামলা করার জন্য আগামী ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় আছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক খুব সিরিয়াসলি কাজ করছে। মামলা করার জন্য ফেডের সহযোগিতা প্রয়োজন। তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।’ মামলায় ফেডকেও অভিযুক্ত করা হবে জানিয়ে মুহিত তখন আরও বলেছিলেন, ‘তা সত্ত্বেও ফেড বাংলাদেশের পক্ষেই থাকবে। কারণ এটা শুধু বাংলাদেশের বিষয় না, সারা বিশ্বই ফেডে টাকা রাখে। তাই বাংলাদেশের খোয়া যাওয়া রিজার্ভ আদায়ের সঙ্গে সারা বিশ্বে ফেডের আস্থার বিষয়টি সম্পর্কিত।’