গাছে গাছে আমের মুকুল

রাজশাহী অঞ্চলের গাছে গাছে মুকুল আসতে শুরু করেছে। অন্যান্য বছর জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে মুকুল আসা শুরু হলেও এবারে এরই মধ্যে রাজশাহীর বেশ কিছু গাছে মুকুল দেখা যাচ্ছে, কিছু গাছ ছেয়ে গেছে মুকুলে। ফল গবেষকরা বলছেন, এবারে শীতের তীব্রতা কিছুটা কম থাকায় আগাম মুকুল চলে এসেছে। আগামী একমাস ধরেই মুকুল আসবে।

রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ ও নাটোরে ৬১ হাজার হেক্টর জমিতে আমবাগান রয়েছে। এসব বাগান থেকে গত বছর প্রায় ৬ লাখ মে.টন আমের উৎপাদন হয়েছে। এ বছরও প্রায় একই পরিমাণ আম উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে। রাজশাহী অঞ্চলে গুটি, ল্যাংড়া, হিমসাগর, ফজলি, আম্রপালি ও আশ্বিনা জাতের আমের ব্যাপক উৎপাদন হয়। জানুয়ারি মাস থেকে শুরু করে প্রায় ছয় মাস ব্যস্ত সময় পার করেন আমের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। প্রতি বছর জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি থেকে ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে গাছে গাছে আসে মুকুল। আর এর পরই তা গুটিতে পরিণত হয়। পর্যায়ক্রমে গুটি বড় হওয়া এবং তা পাকার পালা। এ বছর জানুয়ারি মাস শুরুর আগেই রাজশাহী শহর ও আশপাশের উপজেলাগুলোতে গাছে গাছে মুকুল দেখা দেয়। এরই মধ্যে অনেক গাছ মুকুলে ভরপুর। 

রাজশাহীর আমচাষি হাফিজুর রহমানের ৬টি বাগান রয়েছে। এখন তিনি ব্যস্ত সময় পার করছেন বাগানের পরিচর্যায়। হাফিজুর রহমান বলেন, ‘এবারে শীতের মাত্রা কম থাকায় কিছু কিছু গাছে আগাম মুকুল চলে  এসেছে। তবে, এখনো সব গাছে আসেনি। আগামী মাস নাগাদ সব গাছে মুকুল আসবে।’ তিনি বলেন, মুকুল আসার আগেই চাষিরা গাছের পরিচর্যা শুরু করেন। মুকুল এলে যাতে কীটপতঙ্গ আক্রমণ শুরু করতে না পারে সে জন্য এখন কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া গাছের পরিচ্ছন্নতা নিয়েও কাজ করছেন তারা।

রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আলিম উদ্দিন বলেন, জানুয়ারির এক-তৃতীয়াংশ সময় পার হলেও তেমন তীব্র শীত নেই। আর শীত না থাকলে একটু আগাম মুকুল আসতে পারে। সেটিই এসেছে। তবে, সব গাছে গাছে মুকুল আসতে আরও কিছুটা সময় লাগবে। তিনি বলেন, এখনো আবহাওয়া অনুকূলেই আছে। ভালো আম হবে বলেই আশা করা হচ্ছে। আলিম উদ্দিন বলেন, গাছে গাছে নতুন পাতা দেখা দিলে কিছুটা চিন্তার বিষয় থাকে। এখন পর্যন্ত রাজশাহীর আমগাছগুলোতে নতুন পাতা দেখা যাচ্ছে না। সে অনুযায়ী প্রচুর মুকুল আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।