২০১৮ সালের ডিসেম্বরের শেষ সময়ে পুঁজিবাজারে যে ঊর্ধ্বগতি দেখা দেয় নতুন বছরেও তা অব্যাহত রয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) তালিকাভুক্ত সবগুলো খাতের বাজার মূলধন বাড়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচকটি নতুন বছরের মাত্র সাত কার্যদিবসে ৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ বেড়েছে। এ সময়ে ডিএসইর বাজার মূলধন বেড়েছে ২২ হাজার ৫৯৩ কোটি টাকা। ডিএসইর সূচক ও বাজার মূলধন বাড়াতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে আর্থিক খাত।
পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১৮ সাল শেষে ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স ছিল ৫৩৮৫ পয়েন্টে। আর নতুন বছরের শুরু থেকে টানা উর্ধ্বগতির পরিপ্রেক্ষিতে এ সূচকটি ৫৭৯৮ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। এতে মাত্র সাত কার্যদিবসে ডিএসইর এ সূচকটি বেড়েছে ৪১৩ পয়েন্ট। এরমধ্যে ৮ জানুয়ারি ১১৫ পয়েন্ট বেড়েছে সূচকটি। চলতি বছরের সাত কার্যদিবসের মধ্যে মাত্র একদিন মূল্য সংশোধন দেখা যায়। গেল বছরে ডিএসইএক্স ১৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ হারিয়েছিল, যার বড় অংশই পুনরুদ্ধার হয়েছে।
তালিকাভুক্ত বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার দর বিশ্লেষণে দেখা যায়, সবগুলো খাতের বাজার মূলধন বাড়লেও নতুন বছরের শুরুতে ব্যাংক, ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ বীমা কোম্পানির শেয়ারদর সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। মূলত হিসাব বছর শেষ হওয়ায় আর্থিক খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দর বাড়ছে। চলতি মাত্র সাত কার্যদিবসে ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক খাতের বাজার মূলধন বেড়েছে ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ। গত বছর এ খাতটি ২১ দশমিক ৮ শতাংশ দর হারিয়েছিল। গত বছর সেবা ও নির্মাণ খাত দর হারিয়েছিল ২০ দশমিক ৫ শতাংশ। নতুন বছরের সাত কার্যদিবসে খাতটির বাজার মূলধন ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে।
২০১৮ সালে খেলাপি ঋণ সংকটে পড়ে মুনাফা কমে যাওয়া বাংকিং খাত ২০ দশমিক ৫ শতাংশ বাজার মূলধন হারিয়েছিল। আর চলতি বছরের সাত কার্যদিবসে এ খাতটি প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বাজার মূলধন পুনরুদ্ধার করেছে। শতাংশের হিসাবে এ সময়ে ব্যাংক খাতের শেয়ারদর বেড়েছে ১০ শতাংশ। এ খাতের লেনদেনযোগ্য শেয়ার বেশি থাকায় সূচক বাড়াতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখছে। একই সময়ে সাধারণ বীমা কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে ১১ দশমিক ৭ শতাংশ। এর বাইরে প্রকৌশল, সিরামিক, জ্বালানি, বস্ত্র ও সিমেন্ট খাতের বাজার মূলধন বেড়েছে ৬ দশমিক ৮ থেকে ৮ দশমিক ৭ শতাংশ পর্যন্ত।
এদিকে গতকালও পুঁজিবাজারে ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত রয়েছে। বিনিয়োগকারীদের মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা সত্ত্বেও গতকাল শেষ পর্যন্ত ২৭ দশমিক ৮ পয়েন্ট বেড়েছে ডিএসইর প্রধান সূচক। এতে সূচকটি ৫৭৯৮ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে, যা গত বছরের ২৬ এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ। গতকাল ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে। ডিএসইতে বুধবার লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ২৫ কোটি টাকা, যা আগের দিনের চেয়ে ১৫ কোটি টাকা বেশি। শেয়ারদর পরিবর্তনে ছিল মিশ্র অবস্থা।