অপহরণের ঘটনায় ‘গোলাগুলি’

যশোরে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ তরুণ নিহত, অপহৃত শিশুর লাশ উদ্ধার

যশোরের মনিরামপুরে অপহৃত শিশুকে উদ্ধার করতে গিয়ে ‘অপহরণকারীদের’ সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধে’ বিল্লাল হোসেন (১৯) নামের এক তরুণ নিহত হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাত পৌনে ৩টার দিকে নেহালপুর সড়কের কামালপুর জোড়া ব্রিজের কাছে এ ঘটনা ঘটে। পরে অপহৃত স্কুলছাত্র তারিফ হোসেনের (৯) বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, অপহরণকারী দলের সদস্য বিল্লাল তার দলের সদস্যদের গুলিতেই নিহত হয়েছে। সে মণিরামপুরের খেদাইপুর গ্রামের মোস্তফা হোসেনের ছেলে। অপহৃত তারিফ একই গ্রামের সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে এবং গোপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র ছিল।

যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনসার উদ্দিন জানান, গত রবিবার বাড়ি থেকে খেলতে বেরিয়ে তারিফ নিখোঁজ হয়। রাতে তার বাবার কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে একটি বিকাশ নম্বরে পাঠাতে বলে অপহরণকারীরা। পরদিন তারিফের বাবা মনিরামপুর থানায় একটি জিডি করেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ওই বিকাশ নম্বরটি কেশবপুরের একটি দোকানের। গত মঙ্গলবার টাকা দেওয়ার কথা বলে অপহরণকারীকে ওই দোকানে আসতে বলা হয়। সেখান থেকে আটকের পর বিল্লাল জিজ্ঞাসাবাদে তারিফকে হত্যার কথা স্বীকার করে।

তিনি আরও জানান, রাতে বিল্লালকে নিয়ে খেদাইপুর গ্রামের কামালপুর জোড়া ব্রিজের কাছে অপহৃতের মরদেহ উদ্ধার করতে যায় পুলিশ। তখন তার সহযোগীরা গুলি ছুড়তে শুরু করলে পুলিশও পাল্টা গুলি ছুড়ে। একপর্যায়ে সহযোগীদের গুলি লাগার পর বিল্লালকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে ঘটনাস্থল থেকে তারিফের বস্তাবন্দি লাশ, একটি ওয়ান শুটার গান ও এক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে পুলিশ। গতকাল যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে বিল্লালের লাশের ময়নাতদন্ত হয়েছে।

এদিকে, পুলিশ বিল্লালের বয়স ১৯ বললেও তার বাবা ও স্কুলশিক্ষক জানিয়েছেন, তার বয়স ১৬ বছরের বেশি হবে না। ভরতপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মজনুর রহমান বলেন, বিল্লাল গত বছর জেএসসি পরীক্ষায় ফেল করেছে এবং ষষ্ঠ শ্রেণিতে দুই বছর ছিল। সে হিসেবে তার বয়স ১৬ থেকে ১৭ হতে পারে। পড়ালেখায় ভালো না হলেও তাকে কখনো সন্ত্রাসী মনে হয়নি।

মণিরামপুর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম জানান, গতকাল এ ঘটনায় এক নারীসহ তিনজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।