হরমোন সমস্যায় ওজন বৃদ্ধি হলে

আজকাল সবাই ওজন কমানোর ব্যাপারে সচেতন। বয়ঃসন্ধির পর থেকেই ছেলেমেয়েরা বিভিন্নভাবে ওজন কমানোর ব্যাপারে সচেতন হতে থাকে। কেউ পুষ্ঠিবিদের শরণাপন্ন হয়। আবার কেউ ক্রাশডায়েট বেছে নেয়। কিন্তু এই চেষ্টা বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সমস্যা কঠিন হতে থাকে। বয়স যখনই ৪০-এর কোঠায় পা দেয়, তখন ওজন শুধু বাড়তেই থাকে। এর প্রধান কারণ হরমোনের তারতম্য।

কারণ

১. চল্লিশোর্ধ্ব বয়সে মহিলাদের মেনোপজের সময় কাছাকাছি চলে আসে। যার ফলে ইস্টোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোনের তারতম্য শুরু হয় এবং ওজন বাড়তে থাকে।

২. টেস্টোরন হরমোন কমে যাওয়া এবং কটিমল হরমোন বৃদ্ধিও এর জন্য দায়ী।

৩. বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মেটাবলিক রেট কমতে থাকে। চর্বি তখন ওয়েস্টলাইনের চারপাশে জমা হয়।

৪. পেটের চারপাশে চর্বি জমা এবং ডায়াবেটিস ও ফ্যাটিলিভার যেন মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। তাই নিজেকে রোগমুক্তি করতে অবশ্যই ওজন কমাতে হবে।

কীভাবে ওজন কমানো যায়

প্রতিদিন ৪৫ মিনিট করে হাঁটা। হাঁটা ক্যালরি বার্ন করার থেকেও শরীরের হরমোনগুলোকে বেশি রেগুলেট করবে। ইয়োগা অথবা মেডিটেশন করতে হবে। এতে শরীরের ফ্লেক্সিবিলিটি বাড়বে এবং ব্যথা দূর হবে। সন্ধ্যা ৭টার পর সবজি ও সালাদ ছাড়া কিছু খাওয়া যাবে না। সব ধরনের প্যাকেটের ক্যালরিযুক্ত খাবার খাওয়া যাবে না। বাসায় স্বাস্থ্যকর স্ন্যাক্স খাবার রাখা। মিষ্টিজাতীয় খাবার পুরোপুরি বাদ দেওয়া। ডুবো তেলে ভাজা খাবার পরিহার করা। প্রতিদিন ঘরের কাজ করা। সকাল ও বিকেলের রোদ গায়ে লাগানো। একটানা আধঘণ্টার বেশি বসে না থাকা।

প্রতিদিন কমপক্ষে ছয় ঘণ্টা ঘুমানো। শুকনো খাবার যেমন মুড়ি, চিঁড়া, বিস্কুট, কিসমিস, গুঁড়ো দুধ ইত্যাদি খাওয়া বন্ধ করা। প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি খাওয়া। সকালে ঘুম থেকে উঠে খালিপেটে দারুচিনি ফোটানো পানি অথবা মেথিপানি খাওয়া। রাতে ঘুমানোর আগে টনিক টি খাওয়া। যার মধ্যে থাকবে আপেল সাইডার ভিনিগার ১ চা চামচ, আদার রস ১ চা চামচ, লেবুর রস ২ চা চামচ এবং জিরাগুঁড়ো ১ চিমটি একগ্লাস পানিতে গুলে খেয়ে নেওয়া।