গাইবান্ধা নির্বাচনে যাবে না বিএনপি, নারী আসনেও না

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছে বিএনপি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে কোনো উপনির্বাচনে সংসদ সদস্য পদে লড়াই না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। এছাড়া সংসদে সংখ্যানুপাতিক হারে প্রাপ্য সংরক্ষিত নারী আসনেও মনোনয়ন দেবে না দলটি। এরই অংশ হিসেবে আগামী ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় গাইবান্ধা-৩ (পলাশবাড়ী-সাদুল্লাপুর) আসনের নির্বাচনে বৈধ প্রার্থী হিসেবে থাকলেও কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে সরে দাঁড়ালেন ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী অধ্যাপক ডা. মইনুল হাসান সাদিক। গতকাল গাইবান্ধায় এক সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি। সাদিকের এই ঘোষণায় সেখানে সরকারি দল আ.লীগ প্রার্থীসহ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রইলেন পাঁচজন।

এদিকে গতকাল বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, গত ৩০ ডিসেম্বর যে নির্বাচন হয়েছে তা ছিল প্রহসনের। বিএনপি ওই নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিএনপির কোনো আগ্রহ নেই। তাই গাইবান্ধা-৩ আসনের নির্বাচনে এর আগে যে প্রার্থীকে চূড়ান্ত করা হয়েছিল তাকে তার প্রার্থিতা প্রত্যাহারের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে নিয়ম অনুযায়ী বিএনপির একটি আসন পাওয়ার কথা থাকলেও তাতেও বিএনপি কাউকে মনোনয়ন দেবে না বলেও জানান নজরুল ইসলাম।

এদিকে আমাদের গাইবান্ধা প্রতিনিধি জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মো. আবদুল মতিনকে উদ্ধৃত করে জানান, মইনুল হাসান সাদিক ছাড়াও বাসদের সাদেকুল ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হানিফ দেওয়ান মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। ফলে এখন এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য বৈধ প্রার্থী থাকলেন পাঁচজন। 

এর আগে দুপুরে গাইবান্ধা শহরের সার্কুলার রোডে জেলা বিএনপি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মইনুল হাসান সাদিক বলেন, ‘তফসিল ঘোষণার পর গাইবান্ধায় ১৫৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে জেলখানায় এখনো ৬০-৭০ জন রয়েছেন। ভোটের আগে ও পরে তিন দিন ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়েছে, যাতে ভোট কারচুপির সংবাদ প্রকাশ না পায়। তিনি বলেন, ‘যে নির্বাচনে ফল পূর্বনির্ধারিত থাকে। রেজাল্ট শিট যেখানে তৈরি করা আছে, সেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে আমি আমার নিরীহ ও অসহায় নেতাকর্মীদের আবারও মামলা, হামলা, নিপীড়ন, নির্যাতনের মুখে ঠেলে দিতে চাই না। সেই কারণে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে আমি আমার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে সংসদ নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করছি।’

এই আসনের প্রথম তফসিলে ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী ড. টিআইএম ফজলে রাব্বী চৌধুরী গত ১৯ ডিসেম্বর মারা যাওয়ায় গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ বন্ধ থাকে। গত ২৩ ডিসেম্বর পুনঃতফসিল ঘোষণার পর ২ জানুয়ারি চার প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। তাদের মধ্যে বিভিন্ন ত্রুটি থাকায় মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে ৩ জানুয়ারি তিনজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। এদিন শুধু বৈধ ঘোষণা করা হয় অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিকের মনোনয়নপত্র।