একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ‘রাজ চালাকি’র নির্বাচন অভিহিত করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, কোনো সুস্থ মানুষ এরকম নির্বাচন করতে পারে না। এটি অসুস্থ মন-মানসিকতার পরিচায়ক। সংবিধানের মধ্য থেকে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পথ বের করতে জাতীয় সংলাপ ডাকতেও সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে ‘বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস’ উপলক্ষে গণফোরাম আয়োজিত সভায় ড. কামাল বলেন, “বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে বলতেন, ‘তোমরা রাজ চালাকি থেকে বিরত থাক।’ রাজ চালাকির কারণেই আমরা রাজনীতি থেকে সরে যাচ্ছি।” সরকারকে উদ্দেশ করে ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক বলেন, ‘গত ৩০ ডিসেম্বর যে নির্বাচন হয়েছে সে নির্বাচনকে কেউ অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন বলবে না। আসুন বছরের প্রথম দিকেই সংকট সৃষ্টি না করে ৩০ ডিসেম্বর কী করেছেন তা জাতিকে জানান। সবার সঙ্গে জাতীয় সংলাপ করুন। আমি মনে করি, এটিই হবে সবচেয়ে ভালো পথ। সংলাপের মধ্য দিয়ে সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হোক, কীভাবে আমরা সংবিধানকে মেনে নির্বাচন করে নির্বাচিত সংসদ ও সরকার গঠন করব।’
ড. কামাল বলেন, ‘২৯ ডিসেম্বর রাতে যেভাবে ভোট হয়েছে তা কেউ টের পায়নি, কেন এভাবে করতে হয়েছে? আমি প্রশ্ন রাখতে চাই, কেন এরকম অস্বাভাবিক কাজ হচ্ছে? এর থেকে ঘোষণা দিয়ে দেনÑ থার্ড টার্মের জন্য একজন প্রধানমন্ত্রী হয়ে গেছেন, ৩০০ সদস্য সাংসদ হয়ে গেছেন; আর অপজিশনে সাত আর আমাদের দুজন!’
তিনি আরও বলেন, ‘৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের নামে যা ঘটানো হয়েছে তা স্বাধীনতার ৪৮ বছর পর দেখতে হচ্ছে, এটা দুঃখজনক। এটা হওয়ার কথা নয়। আমি তো সরলভাবে বলেছিলাম, ভাই সকাল সকাল গিয়ে ভোট দেবেন। টেলিভিশন বলছে, কামাল হোসেন বুঝতে পারছেন না ঘটনা তো রাতেই ঘটে গেছে, ২৯ তারিখ রাতেই!’
একাত্তরে বঙ্গবন্ধুর দূরদর্শীমূলক বিভিন্ন সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরে তার সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. কামাল, ‘অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ছাড়া জনগণের প্রতিনিধি হওয়া যায় না। প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা নিলে দেশে স্থিতিশীলতা ও সরকারের বৈধতা আসবে না।’
সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব; গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু, কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, মেজর জেনারেল (অব.) আমসা আমিন, মফিজুল ইসলাম খান কামাল, মোকাব্বির খান, অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বীর প্রতীক, মেজর (অব.) আসাদুজ্জামান প্রমুখ।