নির্বাচনের দিন রাতে নোয়াখালী জেলার সুবর্ণচরে গণধর্ষণের ঘটনায় ডিবি পুলিশের রিমান্ডে থাকা আরও দুই আসামি গতকাল বৃহস্পতিবার জেলার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নবনীতা গুহের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। নোয়াখালী ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর ও এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, রিমান্ডের চতুর্থ দিন মামলার এজাহারভুক্ত আসামি স্বপন ও বেচু ওরফে ইব্রাহিমকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এর একপর্যায়ে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে তার জড়িত থাকার রিমান্ডে ফুরফুরে রুহুল, আরও দুজনের স্বীকারোক্তি
দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তি জবানবন্দি দিতে রাজি হন। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে দুপুর ২টায় কড়া পুলিশ পাহারায় তাদের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্র্রেট আদালতে পাঠানো হয়।
আদালতের একজন কর্মচারী জানান, ম্যাজিস্ট্রেট বিকেল ৪টায় জিজ্ঞাসাবাদ করলে স্বপন ও বেচু ওরফে ইব্রাহিম ৩০ ডিসেম্বর মধ্যরাতে ওই নারীকে গণধর্ষণ করার কথা স্বীকার করেন। ওই ঘটনায় তারা জড়িত ছিলেন বলেও স্বীকার করেছে তারান। দুই আসামির স্বীকারোক্তির মধ্য দিয়ে এ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া ১০ আসামির মধ্যে ছয়জন দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জবানবন্দি দিলেন।
তবে ঘটনার মূল নায়কসহ অন্যরা এখনো মুখ খুলছেন না বলে জানা গেছে। বাদীপক্ষের অভিযোগ, রুহুল আমীন এখনো ডিবি অফিসে রিমান্ডে ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন। মাঝে মাঝে যারা ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে দায় স্বীকার করছে, তাদের ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি দিচ্ছেন তিনি। তার বাহিনীর লোকেরা জবানবন্দি দেওয়া আসামিদের বাড়িঘরে গিয়ে হামলা করাসহ তাদের আত্মীয়স্বজনদের এলাকা ছাড়া করার হুমকি দিচ্ছে। রুহুল আমীনের শহরের গডফাদাররা তার খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং মাঝেমধ্যে সুস্বাদু খাওয়ার পাঠাচ্ছেন ডিবি অফিসে। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্তকারী কর্মকর্তা তা অস্বীকার করেছেন।
মামলার বাদী সিরাজ মিয়া জানান, এজাহারভুক্ত আসামি চৌধুরী, হানিফ ও এজাহারবহির্ভূত হেদু মাঝি ও সোহেল ধরা না পড়লে বাড়িতে থাকা আমার ছেলেমেয়ে নিরাপদ নয়। চৌধুরীর আত্মীয় সোহাগ, সেলিম, সোহেল ও জিন সাহাব উদ্দিন হুমকি দিয়ে বলছে যে, চৌধুরীকে পুলিশ ধরে শহরের দিকে আনলে আমার ছেলেমেয়েকে জ্যান্ত পুঁতে ফেলবে। এ ব্যাপারে জানালেও পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়নি।
এদিকে, নির্যাতিতা হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ১০ দিন পরও নিজে নিজে উঠে বসতে পারেন না। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. খলিলুর রহমান বলেন, তার সুস্থ হতে সময় লাগবে। তার ওপর যে মানবিক চাপ পড়েছে, তা মনে করে আতকে উঠছে বারবার। ভিআইপি, ভিভিআইপিসহ প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সহানুভূতি জানাতে শত শত লোক হাসপাতালে আসেন। তাদের সামাল দিতে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরাও হিমশিম খাচ্ছেন।