সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডের জন্য সৌদি আরবকেই দায় নিতে হবে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতারা।
আগের বছরে বিশ্বজুড়ে খাসোগিসহ হত্যাকাণ্ডের শিকার ৫০ জনেরও বেশি সাংবাদিকদের স্মরণে এক অনুষ্ঠানে দেশটির কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের সদস্যরা এমনটা জানান।
রয়টার্স জানায়, মুক্তমত প্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি সংহতি জানিয়ে বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে আয়োজিতে এ সভায় উপস্থিত ছিলেন রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধিরা।
মার্কিন আইনপ্রণেতারা জানান, ট্রাম্প প্রশাসন কোনো ধরণের ব্যবস্থা না নিলেও খাশোগি হত্যাকাণ্ড নিয়ে ব্যবস্থা নিবে কংগ্রেস।
ডেমোক্র্যাট নেতাদের অভিযোগ, এ সৌদি সাংবাদিককে হত্যার ঘটনায় ট্রাম্প প্রশাসনের যথাযথ প্রতিক্রিয়া দেখানোর ঘাটতি দেখা গেছে।
এ ঘটনায় সৌদি আরবকে সমর্থন দিয়ে যাওয়া নিয়ে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ নতুন নয়। কংগ্রেসের সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের উভয় কক্ষের প্রতিনিধিদের মতে, সৌদি নেতৃবৃন্দকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন ট্রাম্প।
তারা বলেন, ‘কৌশলগত বা বাণিজ্যিক সম্পর্ক কোনোভাবেই মুক্তমত প্রকাশের মতো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চেয়ে উর্ধ্বে কিছু হতে পারে না।’
প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি বলেন, ‘বাণিজ্যিক সম্পর্ককে গুরুত্ব দিয়ে আমাদের এ অবস্থান যদি বিবৃতিসর্বস্ব হয় তাহলে স্বীকার করে নিতে হবে যে, আমাদের নৈতিক অবস্থান আমরা হারিয়ে ফেলেছি।’
মার্কিন কংগ্রেস সদস্যদের মতে, খাশোগির মৃত্যু এক অপূরণীয় ক্ষতি।
প্রসঙ্গত, শুরুতে কনস্যুলেটে খাশোগির নিখোঁজের অভিযোগ অস্বীকার করে করলেও সংবাদমাধ্যমে তুর্কি গোয়েন্দাদের একের পর এক ‘তথ্য ফাঁসের’ মুখে ১৯ অক্টোবর এ হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে সৌদি আরব। যদিও এর সঙ্গে সৌদি যুবরাজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে তারা দাবি করে।
তবে তুরস্ক একাধিকবার দাবি করেছে, এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সৌদির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জড়িত। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত ছিলেন ওয়াশিংটন পোস্টের কন্ট্রিবিউটর জামাল খাশোগি।
খাসোগি হত্যাকাণ্ড ও ইয়েমেন যুদ্ধের জন্য সৌদি আরবকে দায়ী করে ডিসেম্বরে মার্কিন সিনেটররা মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আনার প্রস্তাবও করেন। সেইসঙ্গে সৌদি নেতৃবৃন্দের পরিবর্তন চান, বিশেষ করে সৌদি যুবরাজের অপসারণের জন্য সরাসরি ইঙ্গিত করেন তারা।