অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করতে চায় যুক্তরাজ্য

বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক, বাণিজ্য ও নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারে আগ্রহ প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্য। দেশটির পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ দপ্তরের এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মার্ক ফিল্ড এ আগ্রহের কথা জানান। গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম লন্ডনে মার্ক ফিল্ডের কার্যালয়ে সাক্ষাৎকালে এ বিষয়ে কথা হয় বলে জানিয়েছে বাসস।

গতকাল শুক্রবারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্ক ফিল্ড বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশকে গুরুত্ব দিই এবং আগামী দিনগুলোতে দক্ষিণ এশীয় এই দেশটির সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাণিজ্য, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হবে।’ পূর্বের বাংলাদেশ সফরের কথা স্মরণ করে, বিশেষত বাংলাদেশ ও ব্রিটিশ-বাংলাদেশি সম্পর্কিত যুক্তরাজ্যের সর্বদলীয় পার্লামেন্টারি গ্রুপের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার কারণে ফিল্ড ঢাকা ও লন্ডনের মধ্যকার সম্পর্ক দৃঢ় করার ব্যাপারে তার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। ৩০ ডিসেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে বিজয়ের পর মন্ত্রিসভায় নবীন ও তরুণ রাজনীতিকদের অন্তর্ভুক্ত করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করে বাংলাদেশ আরও প্রবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধি অর্জন করবে বলে আশা ব্যক্ত করেন তিনি।

বৈঠককালে হাইকমিশনার শেখ হাসিনার সরকারের নতুন মেয়াদে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে কৌশলগত এবং অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব নতুন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতির কথা পুনরায় উল্লেখ করেন। তিনি বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্য সম্পর্কে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নতুন ক্ষেত্রগুলোতে সহযোগিতার ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেন।

তাসনিম প্রতিমন্ত্রীকে জানান, যুক্তরাজ্যে দায়িত্বের মেয়াদে তার প্রধান কাজ হবে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার ও বহুমুখীকরণ, বাংলাদেশের জ্বালানি, আইটি ও সেবা খাতে আরও ব্রিটিশ বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক সংযোগসহ কৌশলগত স্তরে সহযোগিতা বাড়ানো।

হাইকমিশনার দুই কমনওয়েলথ রাষ্ট্রের মধ্যে জোরালো ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ে বেশ কিছু প্রস্তাব উত্থাপন করেন। মার্ক ফিল্ড শিক্ষা ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত ব্রিটিশ-বাংলাদেশিদের সাফল্যের প্রশংসা করেন। প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়ায় প্রশংসার কথা পুনর্ব্যক্ত করে জাতিসংঘের সংস্থাগুলোকে সম্পৃক্ত করে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে স্বেচ্ছা, মর্যাদাপূর্ণ ও স্থায়ী প্রত্যাবাসনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী জানান, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার লঙ্ঘন ও গণহত্যা রোধে ব্রিটিশ সরকার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে এবং বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয়ভাবে তার অগ্রণী ভূমিকা পালন অব্যাহত রাখবে। তিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনীতে নেতৃত্বের ভূমিকা এবং বিশ্ব শান্তির জন্য বাংলাদেশ শান্তিরক্ষীদের আত্মত্যাগের প্রশংসা করেন।

হাইকমিশনার ব্রিটিশ প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ২০২১ সালে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপনের একটি প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা করেন। লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের ডিফেন্স অ্যাটাশে, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম আমিনুল হক, কমার্শিয়াল কাউন্সিলর এস এম জাকারিয়া হক ও ফার্স্ট সেক্রেটারি মো. শফিউল আলম বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।