প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, গণতন্ত্রের স্বার্থে বিএনপি তথা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে যারা নির্বাচিত হয়েছেন তাদের সংসদে যাওয়া উচিত। গতকাল শনিবার বিকেলে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের যৌথসভার শুরুতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, পলাতক আসামিকে দিয়ে দল চালানোয় বিএনপি নির্বাচনে হেরেছে, মনোনয়নবাণিজ্যও বিএনপির পরাজয়ের অন্যতম কারণ। যৌথসভার শুরুতে দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেন তারা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি-জামায়াত একাদশ সংসদ নির্বাচন বানচাল করার চেষ্টা করেছে, কিন্তু পারেনি। বিএনপি নির্বাচনে হেরেছে, কেননা তাদের দলের মাথা কে হবেÑ সেটি ঠিক ছিল না। আর হত্যা-ক্যুর রাজনীতির কারণে তারা মানুষের সমর্থন হারিয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনে দল ঘোষিত ইশতেহার বাস্তবায়নে বেশকিছু পদক্ষেপ নেওয়া হবে। দলকে সংগঠিত করতেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত একাদশ নির্বাচনে সব গোষ্ঠী থেকে সমর্থন পেয়েছি আমরা। নির্বাচন নিয়ে মানুষের মধ্যে স্বতঃস্ফূর্ততা ছিল। অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন হয়েছে। আওয়ামী লীগ
মানুষের কল্যাণে কাজ করে। আগামীতেও পরিকল্পনামাফিক উন্নয়ন করা হবে। তবে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। দলের নেতাদের উদ্দেশে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, মানুষ নৌকার ওপর যে আস্থা-ভালোবাসা রেখেছে তার প্রতিদান দিতে হবে দেশের উন্নয়ন করে। বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষ এবার উদযাপন করা হবে বর্ণাঢ্যভাবে।
মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তি বিকল্প হতে পারে না
পরে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে শেখ হাসিনা বলেন, আগামীতে আবারও ক্ষমতায় আসতে সংগঠনকে জনপ্রিয় ও শক্তিশালী করতে হবে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগকে জনগণের কাছে জনপ্রিয় করে তুলতে আগামী পাঁচ বছর কাজ করতে হবে। বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, দলের সবাইকে মাথায় রাখতে হবে আগামীতে আওয়ামী লীগের বাইরে অন্য কোনো দল ক্ষমতায় আসতে হলে সে দলকে অবশ্যই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হতে হবে। আওয়ামী লীগের বিকল্প মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তি হবে? না হতে পারে না।
‘নিবেদিতদের’ পুরস্কৃত করার ঘোষণা
নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বড় বিজয়ে দলের সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, নির্বাচনের আগে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারায় এই বিজয় এসেছে। সর্বশেষ দলের ভেতরে কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি ছিল না জানিয়ে তিনি বলেন, আমি কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতাকে নির্বাচন করতে নিষেধ করেছিলাম। তারা আমার কথা রেখেছেন এবং দলের জন্য সর্বোচ্চটুকু দিয়ে কাজ করেছেন। সেসব নেতার মধ্যে কাউকে কাউকে তিনি পুরস্কৃত করবেন বলে ঘোষণা দেন। আওয়ামী লীগ সভাপতি আরও বলেন, যারা নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে কাজ করেছেন তাদের সবাইকে আমি দাওয়াত করে এক বেলা খাওয়াব। সবাই সেখানে নেমন্তন্ন পাবেন।
বৈঠকে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষ উদযাপনে কী কী কর্মসূচি থাকতে পারে সে সম্পর্কে পরামর্শ চান শেখ হাসিনা। এরপর আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, আবদুর রহমানসহ বেশ কয়েকজন নেতা তাদের অভিমত দেন।