এলার্জির কারণ

যে কোনো অপরিচিত বা যে কোনো এলাজিন-এর বিরুদ্ধে শরীরে যে প্রতিক্রিয়া হয় তাকেই  এলার্জি বলে। এর লক্ষণ হলো হাঁচি, কাশি, চুলকানি, চামড়া ফুলে যাওয়া, লাল হওয়া, জ্বালাপোড়া ইত্যাদি। আর বেশি গুরুতর হলে তাতে হয় শ্বাসকষ্ট, পেট ব্যথা। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না নিলে মৃত্যু হতে পারে।

এলার্জি প্রতিকারের কারণ নির্ণয় করে তার প্রতিকার করতে হবে। যদি কোনো কারণ নির্ণয় করা না যায় সেক্ষেত্রে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি ওষুধ গ্রহণ করতে হবে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানালেন ডাক্তার আবু জাফর মো. শাহিদুল হক

প্রতিকার

পোষা প্রাণী কুকুর বিড়াল ও খরগোশের পশম এলার্জি ও অ্যাজমা হওয়ার অন্যতম কারণ হলো পোষা প্রাণীর পশম। লোমনাশক প্রাণী শরীর থেকে বেশির ভাগ সময় এলাজিন নির্গত হয় এবং চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এজন্য পোষা প্রাণীর জন্য আলাদা থাকার ব্যবস্থা করতে হবে। পোষা প্রাণীর চলাফেরা নির্দিষ্ট জায়গা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রাখতে হবে।

ধুলোবালি

ঘরের বইপত্র, তোশক, বালিশ, পুরনো কাপড় বা পুরনো যেকোনো জিনিসে যেসবে ধুলোর আস্তর পরে তা থেকে এলার্জি হতে পারে। তাই ঘরের কর্নার, বইপত্র, তোশক, বালিশ, পুরনো কাপড় বা পুরনো যেকোনো জিনিস সব সময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

প্রসাধনী

বিভিন্ন কসমেটিকের মাধমে এলার্জি হতে পারে। শ্যাম্পু, লোশন, মেকআপ ইত্যাদি। এজন্য মানসম্মত কসমেটিক ব্যবহার করতে হবে।

সূর্য

অনেকে সূর্যের তাপ সহ্য করতে পারে না। যার ফলে সূর্যের তাপমাত্রায় অনেকের পুরো শরীর ফুলে যায়। সূর্যের তাপমাত্রা যাতে কম সহ্য করতে হয় এজন্য ছাতা, স্কার্ফ ও সানগ্লাস ব্যবহার করতে হবে। আর পরিধান করতে হবে মোটা ধরনের সুতির কাপড়।

খাবার

কিছু কিছু খাবারে এলার্জির আশঙ্কা থাকে। যেমন:  চিংড়ি, গরুর মাংস, ডিম, বাদাম, কলা, পেঁয়াজ, রসুন, ঠা-া পানি ইত্যাদি থেকে এলার্জি সৃষ্টি হতে পারে। একেক জনের একেক খাবারে এলার্জি হয়। এজন্য যেসব খাবারে এলার্জির পরিমাণ বেড়ে যায় তা খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াজনিত এলার্জি খুবই মারাত্মক হতে পারে। শরীরে এলারজেন আসার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে এলার্জি শুরু হয়। মাইট নামক এক ধরনের ক্ষুদ্র জীবাণু যা ধুলোতে থাকে। ফুলের রেণু, ঠা-া এবং শুষ্ক আবহাওয়া ইত্যাদির সংস্পর্শে এ রোগ হয়। এজন্য পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াজনিত জিনিস যা থেকে আপনার এলার্জি হয়। তা থেকে সব সময় সাবধানে থাকতে হবে। সব শেষে কার কিসে এলার্জি সেটা নির্ণয়ের জন্য সবার এলার্জি টেস্ট করা উচিত।