আইনমন্ত্রী বললেন

তারেককে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে

বিভিন্ন মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক। গতকাল রবিবার রাজধানীতে বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে সহকারী জজদের ৩৮তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে আইনমন্ত্রী এ কথা জানান।

তিনি বলেন, ‘শুধু তারেক রহমানই নন, বিদেশে অবস্থানরত সব অপরাধীকে দেশে ফিরিয়ে এনে সাজা খাটানোর ব্যাপারে সরকার অত্যন্ত তৎপর। আপিলে থাকা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাগুলো দ্রুত কার্যতালিকায় আনার উদ্যোগও গ্রহণ করা হবে।’

জামায়াতকে ঐক্যফ্রন্টে নেওয়া ভুল ছিল ড. কামাল হোসেনের এমন বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে আনিসুল হক বলেন, ‘ড. কামাল হোসেন সকালে এক কথা বলেন, বিকেলে আরেক কথা বলেন। তার ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’ এর আগে নবীন বিচারকদের উদ্দেশে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণ যাতে আদালতের বাইরে বিরোধ নিষ্পত্তি করে সে বিষয়ে তাদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে। তাদের ভালোভাবে বোঝাতে পারলে তারা এটিকে গুরুত্ব সহকারে নেবেন। উন্নত দেশে বাইরে বিরোধ নিষ্পত্তির পরামর্শ দেয় আদালতগুলো। এ কারণে সেখানে শতকরা ৯০ ভাগ বিরোধ বা মামলা আদালতের বাইরে নিষ্পত্তি হয়। এভাবে তাদের জুডিশিয়ারির ওপর চাপ কমে আসে।’

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বিচারকদের ভূমিকা অগ্রগণ্য। কেবল আইনের শাসনই নয়, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, গণতন্ত্র সুসংহতকরণ এবং দারিদ্র্য দূরীকরণেও জুডিশিয়ারি বিশেষ করে কোয়ালিটি জুডিশিয়ারির ভূমিকা অনস্বীকার্য। জনগণকে কোয়ালিটি জুডিশিয়ারি উপহার দেওয়ার লক্ষ্যে সরকার বিচার বিভাগকে সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। মামলাজট কমিয়ে আনার লক্ষ্যে নানাবিধ পদক্ষেপ নিয়েছে।’

আনিসুল হক বলেন, ‘মনে রাখতে হবে যে, বিচারক হয়ে ওঠার পেছনে দেশের গরিব-দুঃখী-মেহনতি মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অবদান রয়েছে। আর বিচারকদের কর্মক্ষেত্রই হলো বিচারপ্রার্থী এসব মানুষের শেষ ভরসাস্থল। তাই বিচারিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সাধারণ জনগণ বিচার বিভাগকে কোন দৃষ্টিতে দেখছেন, কিংবা তাদের চোখে ন্যায়বিচারের ধারণাই বা কেমন, সেটিকে বিবেচনায় নিয়ে কাজ করতে হবে। মোট কথা বিচারপ্রার্থী জনগণের অল্প সময়, অল্প ব্যয় ও সহজে ন্যায়বিচারপ্রাপ্তি নিশ্চিতকরণে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।’

বিচারকদের লোভ কিংবা অসততার কারণে বিচার বিভাগ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে যাতে কোনো হতাশা বা বিরূপ ধারণার সৃষ্টি না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে বলেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বিচারকদের পেশার গুরুত্ব যথাযথভাবে অনুধাবন করেই বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা যৌক্তিকভাবে বাড়ানো হয়েছে।’ বিচার প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বিচারপতি খন্দকার মুসা খালেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আইন সচিব আবু সালেহ মো. শেখ জহিরুল হক ও ইনস্টিটিউটের পরিচালক (প্রশিক্ষণ) গোলাম কিবরিয়া বক্তব্য দেন।