নতুন নির্বাচনের দাবি জানাবে বিএনপি

৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ভোট কারচুপির সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরে নতুন নির্বাচনের দাবি জানাবে বিএনপি। সে নির্বাচন হতে হবে নির্দলীয় সরকারের অধীনে। গতকাল দেশ রূপান্তরকে এসব কথা জানিয়েছেন নির্বাচনে অনিয়মের তথ্য-প্রমাণ সমন্বয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ও বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী। তিনি বলেন, এরই মধ্যে নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছে বিএনপি। বিএনপিদলীয় সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ পশ্চিমা বিশ^ নির্বাচনে অনিয়মের কথা উল্লেখ করেছে। তারা তাদের নিজস্ব জনবল দিয়ে নির্বাচনে অনিয়মের তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করেছে। বিএনপির পক্ষ থেকে যে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে তা চলতি মাসেই প্রকাশ করা হবে।

এ্যানী বলেন, জনগণের ভোট নির্বাচনের আগের রাতেই নিজ দায়িত্বে দিয়ে দিয়েছেন স্থানীয় ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। তাদের সহযোগিতা করেছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। তাই ভোটের দিন ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে না পেরে ফিরে গেছেন। ভোটে অনিয়মের তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন সাংবাদিকরা। যেসব তথ্য-প্রমাণ বিএনপির হাতে এসেছে তার মধ্যে রয়েছে ভোটের আগের রাতে ব্যালট কেটে বাক্সে ভরা, নির্বাচনের দিন ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে ঢুকতে না দেওয়া, নারী ভোটারদের ছাত্রলীগ, যুবলীগ নেতাদের সামনে ভোট দিতে বাধ্য করার বিষয়গুলো।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, দলের আইনজীবীদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলার বিষয়গুলো প্রার্থীদের কাছে তুলে ধরবেন। যাতে করে প্রার্থীরা নিজ নিজ জেলায় মামলা করতে পারেন।

দলের মহাসচিবের নির্দেশে কেন্দ্রভিত্তিক রেজাল্ট শিট সংগ্রহ করেছেন ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, আগের রাতে জাল ভোট দিতে গিয়ে কয়েকটি কেন্দ্রে শতভাগ ভোট কাস্ট করে ফেলেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

তিনি বলেন, ’৭৩ সাল থেকে আমি নির্বাচন করছি। আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রথমবারের মতোন আগের রাতে ব্যালট কেটে বাক্সে ভরার রেকর্ড তৈরি করে। এরপর আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত পৌর, উপজেলা, সিটি করপোরেশন নির্বাচন এবং সর্বশেষ সংসদ নির্বাচনে একই অনিয়ম অনুুসরণ করেছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিশেষ করে বিবিসি তা দেশ ও বিদেশে প্রমাণসহ তুলে ধরেছে। 

বিএনপির দপ্তর সংশ্লিষ্ট নেতারা দেশ রূপান্তরকে বলেন, গত ৩ জানুয়ারি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রার্থীদের সঙ্গে বসেছিলেন চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে। প্রার্থীদেরকে নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় নির্বাচনে যেসব অনিয়ম হয়েছে তার তথ্য-প্রমাণ কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। এরই মধ্যে প্রায় ২০০ প্রার্থী নির্বাচনে অনিয়মের তথ্য-প্রমাণ কেন্দ্রে পাঠিয়েছেন। কেউ পেনড্রাইভে, কেউ সিডি আকারে, কেউ আবার লিখিতভাবে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে এই তিন কমিটির নেতাদের কাজ সমন্বয় করছেন দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

নারী নির্যাতনের বিষয়টি সমন্বয় করার দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ও বিএনপি নেত্রী শিরিন সুলতানা গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, নির্বাচনের দিন ও আগে-পরে বিএনপিদলীয় নারী প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা হয়েছে। প্রতিপক্ষের হামলায় আহত হয়েছিলেন ধানের শীষের প্রার্থী আফরোজা আব্বাস, রোমানা মাহমুদ, ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা, কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপা।

তিনি বলেন, ভোটের দিন ভোটকেন্দ্রে নারী ভোটারদের প্রকাশ্যে নৌকায় সিল মারতে বাধ্য করেছেন স্থানীয় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা। যারা পর্দানশীল তাদের মুখের নেকাব সরিয়ে চেহারা দেখাতে বাধ্য করা হয়েছে। দু-একজন প্রতিবাদ করলে তাদের কাউকে কাউকে ধর্ষণের হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি গায়ে হাত তোলা হয়েছে।

অপর কমিটির প্রধান হচ্ছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। যারা মামলার আসামি হয়েছেন, তাদের তালিকা সংগ্রহ করছেন তিনি। তিনি গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে লাখ লাখ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। 

আলাল বলেন, তিনি প্রার্থী ছিলেন না। কিন্তু তার আত্মীয়-স্বজন যারা বরিশালে থাকেন তাদের বিরুদ্ধে দেওয়া হয়েছে। সেই মামলার খোঁজখবর নিতে ও স্বজনদের দেখতে বরিশালে অবস্থান করছেন তিনি। তার অভিযোগ বরিশালে কারাগারে জায়গা না হওয়ায় বন্দিদের এই শীতের মধ্যে তাঁবু করে সেখানে রাখা হচ্ছে।