না.গঞ্জে নিহত পোশাক শ্রমিকও মামলার আসামি

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে আসামি ধরার অভিযানের সময় গত শনিবার পুলিশের সঙ্গে এলাকাবাসীর সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে নিহত পোশাক শ্রমিক আশিকুর রহমানকেও মামলার আসামি করেছে পুলিশ। তবে নিহতের প্রতিবেশী ও স্বজনদের দাবি, ঘটনার সঙ্গে আশিকুরের কোনো সম্পর্ক ছিল না; বাজার করতে গিয়ে তিনি সংঘর্ষের মধ্যে পড়েন।

আশিকুরের প্রতিবেশী মো. হাসমত আলী দেশ রূপান্তরকে বলেন, পেটের তাগিদে আশিক লালমনিরহাটের দক্ষিণ শিবের কুঠি গ্রাম ছেড়ে বন্দরের মদনপুরে এসেছিলেন। সেখানে চানপুর এলাকায় স্ত্রীকে নিয়ে বাসাবাড়িতে ভাড়া থাকতেন। তিনি স্থানীয় প্যানডেক্স গার্মেন্টে চাকরি করতেন। আশিকুরের এক কন্যাসন্তান রয়েছে।

নিহতের স্ত্রী বানেছা বেগম বলেন, ‘বিকেলে গার্মেন্ট থেকে বাসায় ফিরে বাজার করতে মদনপুরে যান আমার স্বামী। রাত ৯টার পর স্থানীয়রা এসে জানায়, পুলিশের গুলিতে তার মৃত্যু হয়েছে। পরে রাতে এলাকার লোকজন বাসায় লাশ নিয়ে আসে। পুলিশ কী কারণে মামলায় আমার মৃত স্বামীর নাম দিয়েছে আমি তা জানি না।’

চানপুর এলাকার বাসিন্দা নুসরাত জাহান বলেন, ‘আশিক বিকেলে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পর সন্ধ্যায় বাজার করতে গেলে সংঘর্ষের মাঝখানে পড়ে মারা গেছে। আমরা ব্যাপক গোলাগুলির শব্দ পেয়েছি।’

গত রবিবার বন্দর থানার এসআই মোহাম্মদ আলীর দায়ের করা মামলায় ২৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৩০০ জনকে আসামি করা হয়। ওই মামলার এজাহারে ২১ নম্বর আসামি হিসেবে আশিকুরের নাম রয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. আসাদুজ্জামান জানান, ময়নাতদন্ত অনুযায়ী আশিকের মৃত্যু হয়েছে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে। দুই ঊরুসহ তার শরীরের কয়েকটি স্থানে ক্ষতচিহ্ন পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বাম ঊরুর ক্ষত গভীর। তবে কোনো ক্ষতচিহ্নেই বুলেট পাওয়া যায়নি। ঘটনাস্থলেই আশিকের মৃত্যু হয়েছে বলে তার ধারণা।

সংঘর্ষে জড়িত না হলেও নিহত আশিকুরকে মামলার আসামি করা হয়েছে বলে পরিবারের দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে বন্দর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হারুনুর রশিদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, নিহত ব্যক্তি যেহেতু ঘটনাস্থলে ছিলেন, সেহেতু তিনি সংঘর্ষে জড়িত থাকতেও পারেন। তদন্তে তিনি জড়িত নন বলে প্রমাণিত হলে তাকে আসামির তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে।