হাসপাতালে থেকেই দল দেখছেন এরশাদ

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ গত ১৫ দিন ধরে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আগামী ৩০ জানুয়ারির সংসদ অধিবেশনের আগে একবার সিঙ্গাপুরেও যাবেন চিকিৎসা নিতে। দলের জ্যেষ্ঠ কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদও অসুস্থ বলে জানিয়েছেন দলের নেতারা। সরকারে ও বিরোধী দলে থাকার সিদ্ধান্ত এবং বিরোধীদলীয় উপনেতা ও হুইপ করা নিয়ে এরশাদের সিদ্ধান্তকে এখনো মেনে নিতে পারেননি রওশন এরশাদপন্থিরা। বিশেষ করে এরশাদের অবর্তমানে দলের হাল কে ধরবে এ নিয়েই বেশি চিন্তিত দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। যদিও এরশাদ তার অবর্তমানে ছোট ভাই ও দলের কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদেরকে দলের চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু সে সিদ্ধান্ত নিয়েও দলের মধ্যে এখনই শুরু হয়েছে নানা সমালোচনা-আলোচনা। একপক্ষ চাইছে, এরশাদের পারিবারিক বৃত্ত থেকে দলকে বের করে আনতে। সে ক্ষেত্রে উত্তরাধিকার হিসেবে স্ত্রী রওশন এরশাদকে দলের চেয়ারম্যানের পদে দেখতে চায় ওই পক্ষ। আবার অন্য পক্ষের মত, এই দুজনের বাইরে নতুন কাউকে দায়িত্বে আনতে।

এ নিয়ে কয়েকদিন ধরে দলের মধ্যে মকানাঘুষা চলছে। ১৫ দিন ধরে টানা হাসপাতালে তিনি। বয়স ও অসুস্থতার কারণে দলের দায়িত্ব কতদিন, কতটুকু চালাতে পারবেন তিনিÑ এ নিয়ে সন্দিহান দলের শীর্ষ নেতাদের একাংশ। তারা চাইছেন, এবার সিঙ্গাপুরে যাওয়ার আগেই তার অবর্তমানে দলের চেয়ারম্যান কে হবেন, নতুন চেয়ারম্যান কীভাবে দায়িত্ব পালন করবেন সে ব্যাপারে স্পষ্ট করতে।

অবশ্য এরশাদের ‘অবর্তমানে’ শব্দটি এখনো কার্যকর নয় বলে জানিয়েছেন  এরশাদের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি খন্দকার দেলোয়ার জালালী। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যে অর্থে অসুস্থ ভাবা হচ্ছে, অতটা অসুস্থ নন স্যার। চিকিৎসকদের দেখভালে রাখতেই তাকে হাসপাতালে রাখা হয়েছে। এর মধ্যেই তিনি দলের সব কাজ করছেন। যখন যাকে দরকার হাসপাতাল থেকেই ফোন করে নির্দেশনা দিচ্ছেন। বিভিন্ন কাগজপত্রে স্বাক্ষর করছেন। পদোন্নতিসহ বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। তা ছাড়া তার অবর্তমানে কে দলের দায়িত্ব নেবেন, সে সিদ্ধান্তও তিনি দলকে দিয়েছেন। সুতরাং এসব নিয়ে কোনো জটিলতা নেই।’

তবে হাসপাতালে থেকে এরশাদের বিভিন্ন দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণকে ভালো চোখে দেখছে না দলের একাংশ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের এক প্রেসিডিয়াম সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘স্যার নিজেই বলেছিলেন, তার অবর্তমানে জি এম কাদের দলের দায়িত্ব পালন করবেন। সেটাও হচ্ছে না। রওশন এরশাদকেও পাওয়া যাচ্ছে না। দলীয় প্রধান হিসেবে সবকিছুই এরশাদ এককভাবে করছেন। কারও কোনো মতামত নিচ্ছেন না। দলের বৈঠকে আসতে পারছেন না। ব্যক্তিগতভাবে যাকে পছন্দ, তাকে ডেকে কথা বলছেন। এভাবে একটা দল চলতে পারে না।’

এরশাদের অসুস্থতার কারণে দলে কোনো সমস্যা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন দলের মহাসচিব ও সংসদের বিরোধীদলীয় হুইপ মশিউর রহমান রাঙ্গা। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘স্যার হাসপাতালে। রওশন এরশাদও অসুস্থ। তাই বলে দলের কাজ থেমে নেই। জি এম কাদের ও আমি আমরা দুজনই দেখছি। কোনো জটিলতা দেখছি না। চেয়ারম্যান স্যার আগেই জি এম কাদেরকে তার অবর্তমানে দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দিয়েছেন। এ মাসে সিঙ্গাপুরে যাওয়ার আগে নিশ্চয় এ ব্যাপারটি আরও স্পষ্ট করে যাবেন।’

মশিউর রহমান আরও বলেন, জাতীয় পার্টি উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেবে। প্রেসিডিয়াম সদস্যদের বৈঠকে এ ব্যাপারে পরবর্তী নির্দেশনা দেওয়া হবে। মনোনয়ন ফরম বিক্রি শিগগির শুরু হবে। দলের সব কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবেই চলছে। কোনো অসুবিধা হচ্ছে না।

‘নিজের স্বার্থ চরিতার্থ করতে একপক্ষ নানা ধরনের কথা প্রচার করছে’ বলেও জানান রাঙ্গা। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, জি এম কাদেরই স্যারের অবর্তমানে দলের চেয়ারম্যান। 

গত ১ জানুয়ারি এরশাদ তার অবর্তমানে ছোট ভাই জি এম কাদেরকে দলের চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা দেন। সেই থেকেই দলের মধ্যে একধরনের দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। কারণ এরশাদের অবর্তমানে জাপার চেয়ারম্যান পদটি পেতে চান রওশন এরশাদ।