নারায়ণগঞ্জে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন

নিরাপত্তায় ছিল পুলিশ ক্যাম্প

আপডেট : ২২ জুলাই ২০২৬, ০৩:২৯ এএম

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার হাজীগঞ্জে চাষাঢ়া-আদমজী সড়কে অবস্থিত দেশের প্রথম নির্মিত জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। উদ্বোধনের পর এ স্মৃতিস্তম্ভের নিরাপত্তার জন্য পাশে ফতুল্লা মডেল থানার অধীনে একটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। ঘটনার সময় ক্যাম্পে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন বলে ফতুল্লা থানার ওসি মোহাম্মদ মাহবুব আলম জানিয়েছেন।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে স্থানীয় একটি সংবাদমাধ্যমে আগুন লাগার ভিডিও প্রচার করা হলে খবরটি জানাজানি হয়। ভিডিওতে আগুন নেভাতে পুলিশ সদস্যদের দৌড়ে যেতে দেখা যায়। এটি গত সোমবার দিনগত রাত ৩টার দিকে ঘটেছে বলে জানা গেছে।

থানার ওসি মাহবুব জানান, গত ১৬ জুলাই এ স্মৃতিস্তম্ভে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক নেতারা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি দেন। ওই অনুষ্ঠানের জন্য চারদিকে কাপড়ে মোড়ানো হয়েছিল। ভোররাতের দিকে দূর থেকে কাপড়ের ছোট একটি দলায় আগুন ধরিয়ে স্মৃতিস্তম্ভের দিকে ছুড়ে মারা হয়। এতে আগুন স্মৃতিস্তম্ভের পাশে থাকা কাপড়ে ধরে যায়। আগুন অল্প ছিল। দ্রুতই তা নেভানো সম্ভব হয়। আগুন বেশি দেখাতে ‘এআই প্রযুক্তি’ ব্যবহার করে ভিডিও বানিয়ে তা সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। আগুন ছুড়েছে কারা বা কতজন ছিলেন তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানান ওসি।

জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ার ঘটনা জানাজানি হওয়া পর গতকাল এনসিপি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতারা বলেন, জুলাইয়ের প্রথম স্মৃতিস্তম্ভ হলেও এটাকে সেভাবে সংরক্ষণ করা হয়নি। যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। এ ঘটনা জন্য তারা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দায়ী করেন।

নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক জুবায়ের সরদার বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পর এমন ঘটনা ঘটা খুবই দুঃখজনক। এটির পাশে একটি পুলিশ বক্স থাকার পরও যদি আওয়ামী লীগের কেউ অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটিয়ে যায়, তা আরও দুঃখজনক। আমরা এর সুষ্পষ্ট তদন্ত চাই এবং যারা এটি করেছে তাদেরও বিচার চাই।’

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী জানান, ভোররাতের ওই সময় দুর্বৃত্তরা আগুন দিলেও তাদের এখনো শনাক্ত করা যায়নি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে আশপাশের সড়ক ও এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহের কাজ করছে পুলিশ। বিষয়টি নিয়ে ক্যাম্পে থাকা পুলিশ সদস্যদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

এ ঘটনার সঙ্গে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ বা এর সহযোগী সংগঠনের কোউ জড়িত কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বা তাদের কেউ জড়িত কি না তা তদন্তের পর নিশ্চিত করে বলা যাবে। আমরা দ্রুতই অগ্নিসংযোগকারীদের শনাক্তে কাজ করছি।’

জানা গেছে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে গত বছরের ১৪ জুলাই উদ্বোধন করা হয় এই ‘জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ’। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের পাঁচজন উপদেষ্টা উপস্থিত ছিলেন। এ স্মৃতিস্তম্ভের পর দেশের অন্যান্য জেলাতেও ‘জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ’ নির্মাণ করা হয়। প্রতিটি স্মৃতিস্তম্ভে গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের নাম ও নানা সেøাগান সংযুক্ত রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত