কাস্টম হাউসে সিঅ্যান্ডএফ মালিককে মারধরে বিক্ষোভ

ঢাকা কাস্টম হাউসের যুগ্ম কমিশনার মাহবুবুর রহমানের কক্ষে এক সিঅ্যান্ডএফ (কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং) মালিককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল সোমবার দুপুরের ওই ঘটনার পর কাস্টম হাউসের সামনে বিক্ষোভ, ভাঙচুর ও কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে রাখেন সিঅ্যান্ডএফ মালিক, এজেন্ট ও কর্মচারীরা। এ সময় তারা অভিযুক্ত যুগ্ম কমিশনারের অপসারণসহ ১০ দফা দাবি তুলে ধরেন। কাস্টম কমিশনারের আশ্বাসে প্রায় ছয় ঘণ্টা পর সরে যান বিক্ষুব্ধরা।

ভুক্তভোগী বারী এন্টারপ্রাইজের মালিক আনিসুর রহমান জানান, দুপুর ২টার দিকে একটি মালের (পণ্যের) ভ্যালুর কাগজপত্র নিয়ে তিনি মাহবুবুর রহমানের কক্ষে যান। কাগজপত্রে পণ্যের ভ্যালু কম লেখা হয়েছে আপত্তি তুলে মাহবুবুর তাকে মারধর করেন। পরে তার আইডি কার্ড রেখে জোর করে সাদা কাগজে লিখিত নেন।

জনৈক আল-আমিন মারধরের দৃশ্য দেখে বাইরে সহকর্মীদের জানান। এ সময় সিএন্ডএফ মালিক, এজেন্ট ও কর্মচারীরা একজোট হয়ে কমিশনার কার্যালয়ের ৩য় তলার গেইটের সামনের চারটি দরজা ভাঙচুর করেন। মাহবুবুরের অপসারণ চেয়ে সেøাগান দিতে থাকেন তারা। এতে ওই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে বিমানবন্দর থানা পুলিশ ও এয়ারপোর্ট আর্মড ব্যাটালিয়ন এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায়। সন্ধ্যা ৬টার দিকে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেন কাস্টম হাউসের কমিশনার মান্নান শিকদার। পরে কাস্টম কমিশনার ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে বিক্ষুব্ধরা শান্ত হয়।

কাস্টম এজেন্ট জুলহাস বলেন, ‘যুগ্ম কমিশনার মাহবুবুর দীর্ঘদিন ধরেই এজেন্টদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে আসছেন। গত রবিবারও ডায়নামিক নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক জসিম উদ্দিনকে মারধর করেছেন।’ বিদেশ থেকে আসা মালামাল ছাড়ানোর ক্ষেত্রে কাস্টম হাউসের কর্মকর্তারা হয়রানি করেন বলেও দাবি করেন তিনি। জুলহাস বলেন, হয়রানি বন্ধ ও যুগ্ম কমিশনারের অপসারণসহ তাদের ১০ দফা দাবি পূরণ না হলে কাজ বন্ধ রাখা হবে।

ঘটনার বিষয়ে জানতে দেশ রূপান্তরের পক্ষ থেকে ঢাকা কাস্টম হাউসের যুগ্ম কমিশনার মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। বিমানবন্দর থানার ওসি নুরে-ই-আজম মিয়া বলেন, ‘বিকালে কাস্টম হাউসে হামলার খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। হামলা-ভাঙচুরের বিষয়ে এখনো কেউ অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’