সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী

বাড়তি মজুরি কষ্টকর হলেও মেনে নিয়েছেন মালিকরা

২০১৮ সালে ঘোষিত পোশাক শ্রমিকদের মজুরি কাঠামো সংশোধন করে যেটুকু বাড়ানো হয়েছে, তা মালিকদের জন্য কষ্টকর হলেও তারা মেনে নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, যিনি নিজেও এ খাতের একজন অন্যতম বড় ব্যবসায়ী। 

গতকাল সোমবার সচিবালয়ে তার দপ্তরে উপস্থিত কয়েকজন সাংবাদিককে তিনি বলেন, তৈরি পোশাক খাত দেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য খাত। প্রধানমন্ত্রী উৎসাহিত হয়ে এ খাতের বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজ-খবর রাখেন। শ্রমিকদের মজুরি যৌক্তিকভাবে বাড়িয়ে দ্রুত সমস্যা সমাধানে তিনি নির্দেশ দেন। সংশোধিত মজুরি কাঠামো মালিকদের জন্য কষ্টকর হলেও তারা তা মেনে নিয়েছেন। টানা আট দিন আন্দোলনের পর গত রবিবার মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠকে বসে ২০১৮ সালে ঘোষিত মজুরি কাঠামো সংশোধনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তাতে এ খাতের শ্রমিকদের সাতটি গ্রেডের মধ্যে সপ্তম গ্রেড বাদে বাকি ছয়টি গ্রেডের মজুরি কিছুটা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।

২০১৮ সালের মজুরি কাঠামো সংশোধনের পর ষষ্ঠ গ্রেডে মজুরি বেড়েছে ১৫ টাকা। এ ছাড়া পঞ্চম গ্রেডে ২০ টাকা, চতুর্থ গ্রেডে ১০২ টাকা, তৃতীয় গ্রেডে ২৫৫ টাকা, দ্বিতীয় গ্রেডে ৭৮৬ টাকা এবং প্রথম গ্রেডে ৭৪৭ টাকা মজুরি বেড়েছে।

মজুরি কাঠামো সংশোধনের পর শ্রমিকরা আন্দোলন ফেলে কাজে ফিরবেন বলে আশাবাদের কথা জানিয়েছেন সরকার, মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিরা। তবে আজ সোমবারও আশুলিয়ার বেশ কিছু কারখানার শ্রমিক কাজে যোগ না দিয়ে আন্দোলনের চেষ্টা করেছে। এ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, গার্মেন্টসের মজুরি নিয়ে আর কোনো সমস্যা হবে না। শ্রমিকদের মধ্যে যারা সোমবার কাজ করেনি, তারাও কাজে ফিরবে। এরই মধ্যে ৯৫ শতাংশ শ্রমিক কারখানায় কাজে যোগ দিয়েছে। শুধু আশুলিয়ায় ৩০টি কারখানার শ্রমিক কাজে যোগ না দিয়ে রাস্তায় নামার চেষ্টা করেছিল কিন্তু পারেনি। পরে তারা পাঞ্চিং করে (মেশিনে হাজিরা দেওয়া) চলে গেছে। এ সংকট আর থাকবে না। তিনি বলেন, পোশাক শ্রমিকদের এই আন্দোলনে কোনো উসকানি আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যে বক্তব্য দিয়েছেন, তাতে উসকানি দিয়ে অস্থিরতা বাড়ানোর আভাস।