অবৈধভাবে বিপুল সম্পত্তির মালিক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মেডিকেল এডুকেশন শাখার হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. আবজাল হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। গত রবিবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপসচিব শাহিনা খাতুন স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত চিঠি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে পাঠানো হয়। পরে গতকাল সোমবার অধিদপ্তর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে।
আবজালের স্ত্রী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন শাখার স্টেনোগ্রাফার রুবিনা খানমের বিরুদ্ধেও অবৈধভাবে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে। আগামী বৃহস্পতিবার তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।
আবজাল ও তার স্ত্রীর সম্পদের অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক। দুজনের বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেছে সংস্থাটি।
এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (শিক্ষা) অধ্যাপক এম এ রশীদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ওই কর্মকর্তাকে ডিজি স্যার (স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক) সাময়িক বরখাস্ত করেছেন। গত রোববার চিঠি পেলে আজ (গতকাল সোমবার) তাকে বরখাস্ত করা হয়।
‘ওই কর্মকর্তার ব্যাপারে একটি সংশোধনী আছে’ উল্লেখ করে এই কর্মকর্তা বলেন, উনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে কর্মরত ছিলেন না। দুই বছর আগে ফরিদপুর থেকে তাকে মহাখালীর ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি (আইএইচটি) বদলি করা হয়। তিনি বর্তমানে আইএইচটির প্রশাসনিক কর্মকর্তা। আমরা এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কেও জানিয়েছি।
আবজালকে বরখাস্ত করতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠানো স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা এবং সংবাদ মাধ্যমে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে প্রেষণে/সংযুক্তিতে কর্মরত হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা (মূল কর্মস্থল ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি, মহাখালী, প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদের বিপরীতে পদায়নকৃত) মো. আবজাল হোসেন সম্পর্কে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, ‘আবজাল হোসেনের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জন ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দুর্নীতির অভিযোগ উত্থাপিত হওয়ায় তাকে সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা, ২০১৮ এর ১২ বিধি অনুযায়ী সাময়িক বরখাস্ত করে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে অবহিত করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো’।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার আবজাল হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন দুদকের উপপরিচালক সামছুল আলম। দুদকের অভিযোগ থেকে জানা যায়, আবজাল দম্পতির নামে রাজধানীর উত্তরায় ১৩ নম্বর সেক্টরের ১১ নম্বর রোডে তিনটি পাঁচতলা বাড়ি আছে। বাড়ি নম্বর ৪৭, ৬২ ও ৬৬। ১৬ নম্বর রোডে রয়েছে পাঁচতলা বাড়ি। বাড়ি নম্বর ১৬। উত্তরার ১১ নম্বর রোডে রয়েছে একটি প্লট। প্লট নম্বর ৪৯। এ ছাড়া রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ও ফরিদপুরের বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে তাদের অঢেল সম্পদ। অস্ট্রেলিয়ায় রয়েছে তাদের বাড়ি। দুদক সেই বাড়ির সন্ধানও পেয়েছে বলে জানা গেছে।