পদ্মার ওপারেই বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মিত হবে। পদ্মা সেতুর কাছাকাছি স্থান নির্ধারণের কাজ চলছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্র্তৃপক্ষ (বেবিচক) কার্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী এসব কথা জানান। একই সঙ্গে নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটের বিষয়ে শিগগিরই ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানান তিনি।
সাংবাদিকদের সামনে নতুন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব বলেন, ‘নতুন দায়িত্বে চ্যালেঞ্জ আছে। তবে চ্যালেঞ্জ জয় করাই হলো মানুষের কাজ। বিমানের ক্ষেত্রেও তাই। পুরো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই সামনের দিকে এগিয়ে যাবে বিমান। আমি আজকে (গতকাল) এই প্রথম এখানে এলাম। কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছি। তারা আমাকে একটা প্রেজেন্টেশন দেখিয়েছেন, আমাদের অনেক বড় বড় প্রকল্প চলমান আছে। যথাসময়ে ওইসব প্রকল্প শেষ করাই আমার প্রাথমিক লক্ষ্য।’
তিনি আরও বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাজ শুরু হয়নি তা নয়, কাজ শুরু হয়েছিল। মুন্সীগঞ্জে স্থানও নির্ধারণ করেছিলাম। কিন্তু স্থানীয়দের বিরোধিতার কারণে সেটা হয়নি। এখন নতুনভাবে ফিজিবিলিটি স্টাডি শেষ হয়েছে, সাইট সিলেকশন চূড়ান্ত হওয়ার পথে। এটা হবে পদ্মা সেতুর ওপারে, সেতুর পাশেই। এই বিমানবন্দর হবে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সেন্টার পয়েন্ট।’ যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট চালু প্রসঙ্গে মাহবুব আলী বলেন, ‘চলতি বছর মার্চ থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে আমেরিকান ফেডারেশন অব সিভিল এভিয়েশন প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফরে আসবে। তাদের অনুমতির পরই নিউ ইয়র্কে ফ্লাইট সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘বিমানবন্দরে সেবার ক্ষেত্রে ভিআইপি ও সাধারণ যাত্রীরা যাতে সমান সুবিধা পায়, সেদিকে নজর থাকবে। বাংলাদেশ বিমান যেমন আকাশে শান্তির নীড়, তেমনই বিমানবন্দরও একটি আনন্দ কেন্দ্র হয়ে উঠবে। বিমানের বন্ধ হয়ে যাওয়া আন্তর্জাতিক রুটসহ নতুন রুট চালুর জন্য কাজ করে যাচ্ছে সরকার। এজন্য কানাডা থেকে আরও উড়োজাহাজ সংগ্রহের কাজ চলছে।’
এর আগে বেবিচকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রতিমন্ত্রী। সিভিল এভিয়েশনের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বৈঠকে মন্ত্রী কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেছেন, সততার সঙ্গে কাজ করতে হবে। কারও বিরুদ্ধে কোনো অসততার অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে বেবিচকের চেয়ারম্যান এয়ার মার্শল এম নাঈম হাসান বলেন, ‘২০১৩ সাল থেকে এখন পর্যন্ত বিমানবন্দর ব্যবহারে উড়োজাহাজ সংস্থাগুলো একই ধরনের চার্জ দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু যন্ত্রপাতির দাম বাড়ায়, এই চার্জের রিভিউয়ের সময় এসেছে। সারচার্জ হলো বকেয়া চার্জের সুদ-আসল। তাই সময়মতো চার্জ পরিশোধ করলে বিমান সংস্থাগুলোকে সারচার্জ পরিশোধের প্রয়োজন হয় না।’ তিনি আরও বলেন, ‘দেশীয় বেসরকারি বিমান সংস্থাগুলোকে সুবিধা দিতে বেবিচক লোকসান দিয়ে যাচ্ছে।’