ভারতে শিক্ষা সংস্কার ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভের দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। চলমান বিক্ষোভের মধ্যে নিরাপত্তাজনিত কারণে অস্থায়ীভাবে ১৬টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ ঘোষণা করেছে দিল্লি মেট্রো রেল করপোরেশন (ডিএমআরসি)। গতকাল বুধবার এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানায় সংস্থাটি। ভারত সরকারের একটি সূত্রের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপ শর্ত দিয়েছেন, সরকার যদি আলোচনা চায়ই তাহলে তাদের কাছে সরকারকে আসতে হবে। পুলিশের দমন অভিযানের পরও হাজারো আন্দোলনকারী দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনস্থলে জড়ো হয়েছেন। গত এক দশকের মধ্যে ভারতের রাজধানীতে সবচেয়ে বড় এই ছাত্র বিক্ষোভ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারের জন্য বড় এক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
বুধবার সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ সাংবাদিকদের বলেন ‘যদি সরকার আলোচনা চায়, তাহলে তাদের এখানে আসতে হবে। আমাদের শর্তগুলো তাদের অবশ্যই মেনে চলতে হবে। আমরা সরকারকে অনুরোধ করব তারা যেন আমাদের শর্তে রাজি হন। সরকারের দাম্ভিকতা শেষ হওয়া উচিত।’ সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেছেন, ‘সরকারের সঙ্গে একটি নিরপেক্ষ স্থান অথবা জন্তর মন্তরে আলোচনা হতে পারে। আমরা আমাদের দাবি থেকে পিছিয়ে যাব না। আমাদের দাবি হলো শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে।’ এর আগে গত সোমবার ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জেপি নাড্ডার সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন সিজেপির দুজন প্রতিনিধি। আন্দোলনকারীরা ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভের জেরে উত্তাল হয়ে ওঠা দিল্লির ১৬টি মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বন্ধ থাকা স্টেশনগুলো হলো লোক কল্যাণ মার্গ, রাজিব চৌক, প্যাটেল চৌক, রামকৃষ্ণ আশ্রম মার্গ, বারাখাম্বা রোড, সুপ্রিম কোর্ট, সেবা তীর্থ, জনপথ, মান্ডি হাউস, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, আইটিও, দিল্লি গেট, ইন্দ্রপ্রস্থ, খান মার্কেট, জোর বাগ, শিবাজি স্টেডিয়াম। দিল্লি মেট্রো রেল করপোরেশন জানিয়েছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে মেট্রো স্টেশনগুলো পরবর্তী সময়ে নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে রাজিব চক, মান্ডি হাউস এবং সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েটে ইন্টারচেঞ্জ সুবিধা চালু রাখা হয়েছে। মেট্রো স্টেশন বন্ধ থাকায় রাস্তায় বাস, অটো ও ট্যাক্সি ক্যাবের জন্য লম্বা লাইন তৈরি হচ্ছে। ফলে যাতায়াতে অতিরিক্ত সময় লাগছে।
ইতিমধ্যে সিজেপির এই আন্দোলনে সমর্থন দিয়েছে ভারতের বিরোধী দল কংগ্রেসসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল। শিক্ষার্থীদের পদযাত্রায় লাঠিচার্জের প্রতিবাদে গত মঙ্গলবার দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ করেছে বিরোধী দল কংগ্রেস। সাড়ে তিন ঘণ্টা পর পুলিশ তাদের সেখান থেকে জোর করে সরিয়ে দেয়। আটক করা হয় কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবসহ বিরোধী জোটের অনেককেই। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর, আটকের দুই ঘণ্টা পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। আটকের পর মুক্তি পেয়ে কংগ্রেসনেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ এবং শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারে সরকারকে দ্রুত আইন প্রণয়ন করতে হবে।
দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে জানানো হয়, পুলিশি অভিযানের প্রতিবাদে গত মঙ্গলবারই যন্তর মন্তরে ছুটে যান একাধিক বিরোধীদলীয় নেতা। ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির (এনসিপি-এসপি) সভাপতি শারদ পাওয়ার, আম আদমি পার্টির (আপ) প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল, তৃণমূল কংগ্রেসের মহুয়া মৈত্র, শিবসেনা (ইউবিটি) নেতা সঞ্জয় রাউত ও অরবিন্দ সাওয়ান্ত, কংগ্রেস নেতা শশী থারুর, বামপন্থি দলগুলোর সংসদ সদস্য এবং আরও কয়েকটি দলের প্রতিনিধিরা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন।
সিজেপি আয়োজিত বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দিল্লি পুলিশ এখন পর্যন্ত ১০টি এফআইআর দায়ের করেছে। পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, বিক্ষোভ চলাকালে বিভিন্ন ঘটনা এবং আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে নয়াদিল্লির একাধিক থানায় এসব এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। কর্মকর্তারা বলেন, পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় চারটি, কনট প্লেস থানায় তিনটি এবং মন্দির মার্গ, বারাখাম্বা রোড ও কর্তব্য পথ থানায় একটি করে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।