শেখ হাসিনার অধীনে আর নির্বাচনে যাবে না বিএনপি

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সরকারের অধীনে আর কোনো নির্বাচনে অংশ নেবে না বিএনপি। সে নির্বাচন জাতীয় সংসদের হোক আর স্থানীয় সরকারের হোক। এর অংশ হিসেবে আগামী মার্চ থেকে শুরু হতে যাওয়া উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেবে না দলটি। গতকাল বুধবার দেশ রূপান্তরের সঙ্গে আলাপকালে স্পষ্টভাবে এ কথা জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য।

উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেওয়া, না নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশ রূপান্তরকে বলেন, তারা এ বিষয়ে দল ও জোটে আলোচনা করবেন। তৃণমূল নেতাকর্মীদের মনোভাব জানার চেষ্টা করবেন। বিশেষ করে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন তারা। বিএনপির মঙ্গলবারের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখনই কোনো মন্তব্য নয়। আরও আলোচনার পর সিদ্ধান্ত জানানো হবে। 

উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে গত মঙ্গলবার রাতে গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বৈঠক করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। এ সময় তারা ৩০ ডিসেম্বরের সংসদ নির্বাচনে ‘কারচুপির তথ্য প্রমাণ’, নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করার বিষয় নিয়েও আলোচনা করেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের সভাপতিত্বে ওই বৈঠকে অংশ নেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৈঠক শেষে স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, তারা উপজেলা নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছেন। তবে কেউ স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করলে দল আপত্তি করবে না।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, কারাগারে স্থাপিত বিশেষ আদালতে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে গত রবিবার তোলা হয়। এ সময় মির্জা ফখরুল দুই দফায় তার সঙ্গে কথা বলেন। তিনিও (খালেদা জিয়া) আর কোনো নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, এ নির্বাচনে গিয়ে আর কী হবে? কারণ, গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন, আদালত ব্যবহার করে একটি প্রহসনের নির্বাচন করেছে। ৩০ ডিসেম্বর সকাল ৮টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ২৯ ডিসেম্বর রাতেই ব্যালট কেটে বাক্স ভরে রেখেছিল আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। তাদের সহযোগিতা করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসন। এর আগে স্থানীয় সরকারের যত নির্বাচন হয়েছে সেসব নির্বাচনেও একই অবস্থা হয়েছিল।

৩০ ডিসেম্বর সংসদ নির্বাচনের রাতেই ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে নতুন নির্বাচনের দাবি জানায় বিএনপি। তাই বিএনপির যে পাঁচজন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তারা শপথ নেননি। এ ছাড়া  পুনঃতফসিল হওয়া গাইবান্ধা-৩ আসনের নির্বাচন থেকে বিএনপি প্রার্থী ডা. মইনুল হাসান সাদিক সরে দাঁড়িয়েছেন। কার নির্দেশে প্রার্র্থিতা প্রত্যাহার করেছিলেন- জানতে চাইলে সাদিক গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, লন্ডনে অবস্থানরত দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাকে ফোন করে সরে দাঁড়াতে বলেন।